সম্প্রতি নিজের বিবাহকে ঘিরে এক বিশেষ স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন সোনাক্ষী সিন্হা। অভিনেত্রীর কথায়, তাঁদের বিয়ের দিন এমন এক আবহ তৈরি হয়েছিল, যা দুই ভিন্ন ধর্মের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সহাবস্থানের প্রতীক হয়ে ওঠে। তিনি জানান, অনুষ্ঠানের সময় একদিকে পুরোহিত গায়ত্রী মন্ত্র উচ্চারণ করছিলেন, অন্যদিকে ভেসে আসছিল আজানের ধ্বনি। সেই মুহূর্ত আজও তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগঘন ও স্মরণীয়।
দীর্ঘ সাত বছরের সম্পর্কের পর ২০২৪ সালের ২৩ জুন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সোনাক্ষী এবং জ়াহির ইকবাল। তাঁদের বিয়ে ছিল আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন, যেখানে প্রচলিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পরিবর্তে আইনগত নিবন্ধন এবং পরে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের নিয়ে একটি সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল।
অভিনেত্রী জানান, ভিন্ন ধর্মের দুই মানুষের একসঙ্গে পথচলা নিয়ে নানা আলোচনা এবং সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্যও করা হয়। তবে এসব বিতর্ককে গুরুত্ব না দিয়ে তাঁরা নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।
সোনাক্ষীর কথায়, তাঁদের সম্পর্কে কখনও ধর্ম বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং একে অপরের বিশ্বাসকে সম্মান করাই ছিল তাঁদের সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। তিনি মনে করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়াই একটি দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
অভিনেত্রীর এই বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যায় তাঁর বাড়ির অন্দরসজ্জাতেও। তিনি জানান, তাঁদের বাসভবনে একটি বিশেষ শিল্পকর্ম রয়েছে, যেখানে গায়ত্রী মন্ত্র এবং কলমার নান্দনিক সমন্বয় ফুটে উঠেছে। উপহার হিসেবে পাওয়া এই ছবিটি তাঁদের কাছে শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়, বরং সম্প্রীতি, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতীক। দম্পতি প্রায়ই সেই ছবির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। সোনাক্ষীর আশা, এই শিল্পকর্ম তাঁদের জীবনে আরও শান্তি, ইতিবাচকতা এবং সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে।
বিয়ের আগে দুই পরিবারের সম্মতি পাওয়ার বিষয়টি সহজ ছিল না বলেও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত পরিবারের সমর্থনেই তাঁদের সম্পর্ক পরিণতি পায়। পরে সোনাক্ষীর বাবা শত্রুঘ্ন সিন্হা প্রকাশ্যে জানান, প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে নিজেদের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার তাঁদের রয়েছে এবং সন্তানদের সুখই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সোনাক্ষী বারবারই স্পষ্ট করেছেন, তিনি ও জ়াহির কখনও একে অপরের ওপর নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেননি। বরং দুই পরিবারের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যকে সমান সম্মান জানিয়ে এগিয়ে চলাই তাঁদের দাম্পত্য জীবনের মূল দর্শন।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.