Arijit Singh Retirement: চলতি বছরের জানুয়ারিতে হঠাৎই প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করে চমকে দিয়েছিলেন অরিজিৎ সিং (Arijit Singh)। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে এমন সিদ্ধান্ত কেন—তা নিয়ে শুরু হয়েছিল জোর চর্চা। অরিজিৎ ভক্তদের মধ্যেও নেমে এসেছিল হতাশা। তবে এতদিন নিজের সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি গায়ক। এবার প্রায় সাত মাস পর সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্যের কারণ জানালেন তাঁর সতীর্থ ও সঙ্গীতশিল্পী আমাল মালিক।
অরিজিৎ সিং(Arijit Singh)-এর প্লেব্যাক থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত যে কোনও পরিস্থিতির চাপে নেওয়া নয়, তা স্পষ্ট করেছেন আমাল মালিক। তাঁর কথায়, এটি সম্পূর্ণ অরিজিতের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাঁর সঙ্গে যাঁরা দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, তাঁরা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অনেক আগেই বুঝতে পেরেছিলেন যে সিনেমার জন্য গান গাওয়ার প্রতি অরিজিতের আগ্রহ ধীরে ধীরে কমে আসছিল।
আমালের বক্তব্য, অরিজিৎ বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেননি। বরং নিজের পছন্দ এবং কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠে জাদু রয়েছে—এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তাঁর কণ্ঠে গান মানেই তা জনপ্রিয় হবে, এমন ধারণাও তৈরি হয়েছিল শ্রোতাদের মধ্যে। কিন্তু আমালের মতে, অরিজিতের কাছে বিষয়টি একেবারেই আলাদা।
ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক সময় বিপুল অর্থ খরচ করে শুধুমাত্র অরিজিতের কণ্ঠে গান গাওয়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। কারণ, অরিজিৎ গান গাইলেই সেটি হিট হবে—এমন একটা ধারণা রয়েছে। কিন্তু গায়ক নিজে মনে করেন, কোনও গানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল গানের সামগ্রিক মান।
আমাল মালিকের মতে, একটা সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে অরিজিতের নামই একটি গানকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করা হত। কিন্তু বাস্তবে শুধু জনপ্রিয় একজন গায়ক থাকলেই একটি গান সফল হয় না।
একটি গানের সাফল্যের পিছনে সুরকার, গীতিকার এবং গায়কের সম্মিলিত অবদান থাকে। গানটির কথা, সুর, সংগীতায়োজন এবং পরিবেশন—সবকিছু মিলিয়েই তৈরি হয় একটি ভালো গান। আর এই জায়গাতেই অরিজিতের গুরুত্বের পাশাপাশি তাঁর নিজের শিল্পীসত্তার অবস্থানটিও স্পষ্ট হয়।
প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও অরিজিতের সঙ্গে আমাল মালিকের পেশাগত সম্পর্ক এখনও অটুট। ইমরান হাশমির আসন্ন ছবি ‘আওয়ারাপন ২’-এর ‘ইয়ে আওয়ারাপন’ গানেও দু’জনে একসঙ্গে কাজ করেছেন।
অরিজিতের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে আমাল জানান, তাঁরা নিয়মিত একে অপরের সঙ্গে গান শেয়ার করেন। আমাল একসঙ্গে পাঁচ-ছয়টি গান পাঠান অরিজিতকে। সেখান থেকে অরিজিতের যে গানটি পছন্দ হয়, সেটি নিয়েই তাঁরা পরবর্তী সময়ে কাজ করেন।
অর্থাৎ, প্লেব্যাক থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ালেও সঙ্গীত থেকে অরিজিতের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং পছন্দের এবং মানসম্পন্ন কাজকেই গুরুত্ব দিয়ে নিজের মতো করে এগিয়ে যেতে চাইছেন এই জনপ্রিয় গায়ক।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.