বাংলাদেশের অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুর নৃশংস হত্যাকাণ্ড আজও শিউরে ওঠার মতো। শুটিংয়ের কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর ফেরেননি তিনি। পরদিন কেরানিগঞ্জের হজরতপুর সেতুর কাছে ঝোপের মধ্যে একটি বস্তা থেকে উদ্ধার হয় এক মহিলার টুকরো করা দেহ। পরে সেটি রাইমার বলে শনাক্ত হয়। তদন্তে উঠে আসে দাম্পত্য কলহ, খুন এবং দেহ লোপাটের চাঞ্চল্যকর তথ্য।
২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি সকাল ৭টা নাগাদ ঢাকার বাড়ি থেকে শুটিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়েছিলেন রাইমা ইসলাম শিমু। তাঁর স্বামী শাখাওয়াত আলী নোবেলের দাবি ছিল, এরপর থেকেই রাইমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। ফোনও ধরছিলেন না অভিনেত্রী। পরদিন রাইমার বোন ফতিমা নিশা এবং স্বামী শাখাওয়াত আলাদা ভাবে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
এরই মধ্যে কেরানিগঞ্জের হজরতপুর সেতুর কাছে ঝোপের মধ্যে একটি বস্তা উদ্ধার হয়। বস্তা খুলতেই দেখা যায়, ভিতরে এক মহিলার দেহ। দেহটি দু’টুকরো করা হয়েছিল। হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর রাইমার ভাই শহিদুল ইসলাম দেহটি শনাক্ত করেন।
তদন্তের শুরুতেই পুলিশের নজরে আসে পরিবারের ব্যবহৃত গাড়িটি। গাড়ির ভিতর থেকে তীব্র ব্লিচের গন্ধ পাওয়া যায়। উদ্ধার হয় নাইলনের দড়িও। তদন্তকারীদের দাবি, যে বস্তার ভিতর থেকে রাইমার দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেটিও একই ধরনের দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। এই সূত্র ধরেই তদন্তে নতুন মোড় আসে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের পর স্ত্রীকে খুনের কথা স্বীকার করেন শাখাওয়াত। অভিযোগ, ১৬ জানুয়ারি সকালে দাম্পত্য কলহের জেরে রাইমাকে মারধর করেন তিনি। এরপর গলা টিপে তাঁকে হত্যা করা হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, খুনের পর শাখাওয়াত তাঁর বন্ধু আবদুল্লাহ ফারহাদকে বাড়িতে ডেকে আনেন। বাড়ির পরিচারককে খাবার আনতে বাইরে পাঠিয়ে দু’জনে মিলে রাইমার দেহ টুকরো করেন বলে অভিযোগ। এরপর দেহ বস্তায় ভরে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, বিকেলের দিকে প্রথম বার দেহ ফেলার চেষ্টা করা হলেও দিনের আলোয় তা সম্ভব হয়নি। পরে রাত প্রায় ৯টা নাগাদ ফের গাড়ি নিয়ে বের হন দু’জনে। কেরানিগঞ্জের হজরতপুর সেতুর কাছে ঝোপের মধ্যে বস্তাটি ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে আসে।
এরপরই রাইমা নিখোঁজ বলে থানায় অভিযোগ করেন তাঁর স্বামী। কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, ততই প্রকাশ্যে আসে তাঁদের দাম্পত্য জীবনের নানা অশান্তির কথা। জানা যায়, রাইমা স্বামীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগও করেছিলেন। তাঁদের মেয়ের বয়ানেও বাবার হাতে মায়ের নিয়মিত মারধরের অভিযোগ উঠে আসে। এমনকি পুলিশি হেফাজত থেকে মেয়েকে ফোন করে মাকে খুন করার জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন শাখাওয়াত—এমন দাবিও সামনে আসে।
ঘটনায় মোট ছ’জনকে আটক করা হয়েছিল বলে জানা যায়। তদন্তকারীদের দাবি, রাইমা নিখোঁজ—এমন একটি গল্প তৈরি করে ঘটনাটিকে অন্য দিকে ঘোরানোর চেষ্টা হয়েছিল।
অভিনয়ের জগতে রাইমা ইসলাম শিমুর পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৯৮ সালে কাজী হায়াতের ‘বর্তমান’ ছবির মাধ্যমে। ২০০২ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৫টি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। পাশাপাশি মঞ্চ ও ছোটপর্দাতেও কাজ করেছেন। ২০০৪ সালে ব্যবসায়ী শাখাওয়াত আলী নোবেলকে বিয়ে করেন রাইমা। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে।
অভিনয়জগতে নিজের পরিচিতি তৈরি করা রাইমার এমন মর্মান্তিক পরিণতি তাই আজও বাংলাদেশের বিনোদন জগৎ ও তাঁর অনুরাগীদের মনে গভীর দাগ রেখে গিয়েছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.