Vastu: বাড়ি থেকে নেতিবাচক শক্তি দূর করার ১৫টি কার্যকরী বাস্তু পরামর্শ

Vastu: বাস্তুশাস্ত্রের ধারণা অনুযায়ী, বাড়ির পরিবেশে আলো, বাতাস, জল, আগুন, স্থান এবং বিভিন্ন জিনিসের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। ঘর অগোছালো থাকা, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব কিংবা ভাঙাচোরা জিনিস জমিয়ে রাখার ফলে বাড়ির পরিবেশ ভারী বা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। সেই কারণেই বাস্তু মেনে বাড়িকে পরিচ্ছন্ন, খোলামেলা ও সুশৃঙ্খল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
নেতিবাচক শক্তি দূর করার জন্য সবসময় বড় কোনও পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। বরং নিয়মিত কিছু ছোট পদক্ষেপই বাড়ির পরিবেশকে আরও পরিচ্ছন্ন, আরামদায়ক ও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে।

১. প্রবেশপথ পরিষ্কার ও আলোকিত রাখুন
বাড়ির প্রধান দরজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তাই প্রবেশপথে জুতো, বাক্স বা অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের স্তূপ না রাখাই ভালো। দরজার জায়গাটি পরিষ্কার ও পর্যাপ্ত আলোযুক্ত রাখুন। সুন্দর নামফলক বা কাঠের চৌকাঠও ব্যবহার করতে পারেন।

২. ঘর পরিষ্কারে সামুদ্রিক লবণ ব্যবহার করুন
বাস্তুতে সামুদ্রিক লবণকে শোধনকারী উপাদান হিসেবে ব্যবহার করার প্রচলন রয়েছে। ঘর মোছার জলে সামান্য লবণ মেশানো যেতে পারে। আবার ঘরের কোনও কোণে একটি পাত্রে লবণ রেখেও থাকেন অনেকে। কয়েকদিন পর অবশ্যই সেটি বদলে ফেলুন।

৩. উত্তর-পূর্ব কোণ অগোছালো রাখবেন না
বাস্তুশাস্ত্রে উত্তর-পূর্ব দিককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই জায়গায় ভারী আসবাব বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস না রেখে পরিষ্কার ও খোলামেলা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। চাইলে ছোট জলাধার বা জলভিত্তিক কোনও সাজসজ্জার উপাদান রাখতে পারেন।

৪. লিক হওয়া কল দ্রুত সারান
ফুটো কল থেকে জল পড়া শুধু অপচয়ই করে না, বাস্তুবিশ্বাসেও এটিকে নেতিবাচক বলে মনে করা হয়। তাই কল, পাইপ বা জলের সংযোগে কোনও সমস্যা হলে দ্রুত মেরামত করুন। এতে জলের অপচয়ও কমবে।

৫. বাড়িতে সবুজ গাছ রাখুন
বাড়ির পরিবেশ সতেজ রাখতে গাছপালা কার্যকর। বাস্তুশাস্ত্রে তুলসী, মানি প্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট ও অ্যালোভেরার মতো গাছকে অনেকে শুভ বলে মনে করেন। তবে ঘরের ভিতরে কাঁটাযুক্ত গাছ রাখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

৬. ধূপ বা কর্পূর ব্যবহার করতে পারেন
ধূপ, কর্পূর বা সুগন্ধি উপাদান ব্যবহারের প্রচলন বহুদিনের। সন্ধ্যায় কর্পূর বা ধূপ জ্বালিয়ে ঘরের পরিবেশ সুগন্ধিময় করা যায়। তবে ধোঁয়া ও আগুন ব্যবহারের সময় অবশ্যই পর্যাপ্ত বায়ুচলাচল ও অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখুন।

৭. ঘণ্টা বা উইন্ড চাইম ব্যবহার করুনবাস্তুবিশ্বাসে শব্দকে স্থবিরতা কাটানোর একটি উপায় হিসেবে দেখা হয়। ধাতব উইন্ড চাইম উত্তর-পশ্চিম বা পশ্চিম দিকে রাখার প্রচলন রয়েছে। চাইলে নিয়মিত ঘণ্টার শব্দও ব্যবহার করতে পারেন।

৮. আসবাবপত্রের বিন্যাস ঠিক করুন
ঘরের মাঝখানটা যতটা সম্ভব খোলামেলা রাখুন। ভারী আসবাব দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকের দেওয়ালের পাশে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। ভাঙা, ক্ষতিগ্রস্ত বা দীর্ঘদিন অব্যবহৃত আসবাব ঘরে জমিয়ে না রাখাই ভালো।

৯. আয়না ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
বাস্তু মতে আয়না ঘরের শক্তি ও প্রতিফলনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই বিছানা বা প্রধান দরজার ঠিক বিপরীতে আয়না না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। উত্তর বা পূর্ব দেওয়ালে আয়না রাখার প্রচলন রয়েছে। আয়নায় যেন মনোরম দৃশ্য বা সবুজ গাছপালা প্রতিফলিত হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে পারেন।

১০. বন্ধ বা নষ্ট ঘড়ি সরিয়ে ফেলুন
থেমে যাওয়া ঘড়িকে বাস্তুশাস্ত্রে স্থবিরতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তাই বাড়িতে নষ্ট বা বন্ধ ঘড়ি ফেলে না রেখে মেরামত করুন অথবা সরিয়ে দিন। কার্যকর ঘড়ি উত্তর বা পূর্ব দেওয়ালে রাখার প্রচলন রয়েছে।

১১. বাড়িতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢুকতে দিন
বদ্ধ ঘরে দীর্ঘক্ষণ জানালা-দরজা বন্ধ থাকলে বাতাস ভারী ও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রতিদিন কিছু সময় জানালা খুলে রাখুন। প্রাকৃতিক আলো ও তাজা বাতাস ঢোকার সুযোগ দিন। সম্ভব হলে ঘরের বিপরীত দিকের জানালা খুলে ক্রস-ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করুন।

১২. লেবু-জলের পাত্র রাখার প্রচলন রয়েছে
বাস্তুবিশ্বাসে বাড়ির কেন্দ্রস্থলে স্বচ্ছ কাচের পাত্রে জল ও একটি গোটা লেবু রাখার রীতি রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এটি স্থবির শক্তি ও নেতিবাচক প্রভাব দূর করতে সাহায্য করে। শনিবার জল বদলানোর প্রচলন রয়েছে। লেবু নরম, বিবর্ণ বা ভেসে উঠলে সেটি বদলে নতুন লেবু ব্যবহার করা হয়।

১৩. প্রধান দরজায় স্বস্তিকা চিহ্ন ব্যবহার
হিন্দু সংস্কৃতিতে স্বস্তিকা শুভতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। বাস্তুবিশ্বাসে প্রধান দরজার উপরে পিতল বা তামার স্বস্তিকা রাখার প্রচলন রয়েছে। এটি সৌভাগ্য, স্থিতিশীলতা ও সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৪. ঘণ্টা বা সিংগিং বোলের শব্দ ব্যবহার করুন
পিতলের ঘণ্টা বা সিংগিং বোলের শব্দ দিয়ে ঘরের পরিবেশ বদলানোর রীতি রয়েছে। বিশেষ করে অন্ধকার করিডোর, অব্যবহৃত ঘর বা অগোছালো জায়গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি শব্দ ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বাস্তুবিশ্বাসীরা।

১৫. লোবান বা গুগ্গাল দিয়ে ধূপন
সন্ধ্যার সময় লোবান বা গুগ্গাল জ্বালিয়ে ঘরে সুগন্ধ ছড়ানোর প্রচলন রয়েছে। বিশ্বাস অনুযায়ী, এর ধোঁয়া ঘরের স্থবির পরিবেশ দূর করে সতেজতা আনতে সাহায্য করে। তবে কাঠকয়লা বা আগুন ব্যবহার করলে অবশ্যই জানালা খোলা রাখুন এবং শিশু ও পোষ্যদের থেকে দূরে রাখুন।

বাড়িকে ইতিবাচক রাখতে মূল কথা
বাড়ি থেকে ‘নেতিবাচক শক্তি’ দূর করার ধারণাটি মূলত বাস্তুশাস্ত্র ও লোকবিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত। এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। তবে ঘর পরিষ্কার রাখা, অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলা, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নিশ্চিত করা, ভাঙা জিনিস মেরামত করা এবং সুন্দরভাবে ঘর সাজানোর মতো অভ্যাস নিঃসন্দেহে বাড়ির পরিবেশকে আরও আরামদায়ক করে তুলতে পারে।

Vastu: বাড়ির এই কাজগুলিতে রুষ্ট হন রাহু! জন্মছকে শুভ থাকলেও ভোগ করতে হতে পারে কুফল

তাই বড় কোনও পরিবর্তনের বদলে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, সঠিক আলো-বাতাস এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশের দিকে নজর দিন। ছোট ছোট এই অভ্যাসই বাড়িকে আরও শান্ত, সতেজ ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক