নেপালের ধ্বংসস্তূপে কমপক্ষে ২০ দেহের সন্ধান, ভারতের ‘সাম্বা’র ভূমিকা নজরকাড়া

নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর বেশ কয়েক দিন কেটে গেলেও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। কাদামাটি, ভেঙে পড়া বাড়িঘর এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে প্রাণের সন্ধান প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠলেও উদ্ধারকাজ থামেনি। নেপালের সেনা, পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের পাশাপাশি এই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে প্রশিক্ষিত সারমেয় বাহিনী।

এই উদ্ধার অভিযানে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ‘সাম্বা’ নামে একটি ল্যাব্রাডর। নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর কে-নাইন ইউনিটের এই সদস্যকে মূলত ভারত থেকে আনা হয়েছিল। পরে নেপালের অন্যান্য প্রশিক্ষিত সারমেয়র সঙ্গে তাকেও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মানুষের দেহের গন্ধ শনাক্ত করার জন্য।

জানা গিয়েছে, রাসুয়া এবং ত্রিশূলী এলাকায় তল্লাশি চালানোর সময় সাম্বা একাই নয়, তার সঙ্গে ছিলেন একজন প্রাইমারি হ্যান্ডলার এবং একজন সহযোগী। ধ্বংসস্তূপের উপর দিয়ে এগোনোর সময় মানুষের দেহের গন্ধ পেলেই সাম্বা নির্দিষ্ট জায়গায় থেমে যেত। কখনও একই জায়গার চারপাশে বারবার ঘুরত, কখনও বসে পড়ত, আবার কখনও পায়ের নখ দিয়ে মাটি খোঁচাতে শুরু করত। এই আচরণগুলিই তার হ্যান্ডলারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে কাজ করত।

সাম্বা কোথাও দাঁড়িয়ে জোরে ডাকতে শুরু করলেই সতর্ক হয়ে যেতেন উদ্ধারকারীরা। এরপর হ্যান্ডলারদের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করা হত। সেই তল্লাশির পরই ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। রাসুয়া ও ত্রিশূলী এলাকায় এভাবেই অন্তত ২০টি দেহের সন্ধান পেতে সাহায্য করেছে সাম্বা।

সাম্বার এই দক্ষতার পিছনে রয়েছে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ এবং তার হ্যান্ডলারদের সঙ্গে তৈরি হওয়া বিশেষ বোঝাপড়া। কারণ সাম্বার প্রতিটি আচরণের নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে। কখন সে কোনও গন্ধ পেয়েছে, কখন সন্দেহজনক জায়গা চিহ্নিত করেছে—এই সূক্ষ্ম সংকেতগুলি বুঝতে পারেন মূলত তার সঙ্গে নিয়মিত কাজ করা নিরাপত্তারক্ষীরাই। তবে শুধু সাম্বাই নয়, নেপালের উদ্ধার অভিযানে একাধিক প্রশিক্ষিত সারমেয়কে কাজে লাগানো হয়েছে। নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী সাম্বার পাশাপাশি আরও পাঁচটি সারমেয়কে উদ্ধারকাজে নামিয়েছিল। নেপাল সেনার তরফেও আরও ছ’টি প্রশিক্ষিত সারমেয়কে তল্লাশি অভিযানে নিয়োগ করা হয়।

প্রাণের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশ কমে এলেও ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি অংশে এখনও চলছে তল্লাশি। আর সেই কঠিন অভিযানে মানুষের পাশাপাশি সাম্বার মতো প্রশিক্ষিত চারপেয়েদের ঘ্রাণশক্তিই হয়ে উঠেছে উদ্ধারকারীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক