হাতের তালু ও শরীরের প্রেশার পয়েন্টে চাপেই কমতে পারে ওজন! আকুপ্রেশারের সহজ কৌশলে মেদ ঝরানোর উপায়

বর্তমান সময়ে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। শুধু প্রাপ্তবয়স্করাই নন, শিশুদের মধ্যেও বয়সের তুলনায় ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে ডায়াবেটিস, হরমোনের সমস্যা, হজমের গোলমালসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা বাড়ছে।

ওজন কমানোর জন্য অনেকেই কঠোর ডায়েট, দীর্ঘ সময় জিমে ব্যায়াম কিংবা উপোসের মতো পদ্ধতি অনুসরণ করেন। কিন্তু এসব পদ্ধতি সবার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা কঠিন। আবার অনেক সময় ওষুধ ব্যবহার করতে হয়, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকতে পারে। এই কারণেই ধীরে ধীরে অনেক মানুষ বিকল্প ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন।

এই ধরনের প্রাচীন পদ্ধতির মধ্যেই অন্যতম হল আকুপ্রেশার। ভারতীয় যোগচর্চা ও প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে শরীরের নির্দিষ্ট পয়েন্টে চাপ প্রয়োগ করে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। এই পদ্ধতির মূল ধারণা হল—মানুষের শরীরেই সুস্থ থাকার শক্তি লুকিয়ে থাকে। সঠিকভাবে স্নায়ু ও পেশিকে সক্রিয় করা গেলে শরীর নিজেই অনেক সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের কিছু নির্দিষ্ট প্রেশার পয়েন্টে চাপ দিলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ, হজম শক্তি বৃদ্ধি এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া উন্নত হতে পারে। এর ফলে ধীরে ধীরে ওজন কমাতে সাহায্য মিলতে পারে।

কানের প্রেশার পয়েন্ট

কানের সামনে ছোট ত্রিভুজাকৃতি অংশের কাছাকাছি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেশার পয়েন্ট রয়েছে। এই জায়গায় তর্জনী দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে প্রায় ১ থেকে ৩ মিনিট ধরে রাখলে অতিরিক্ত ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হয়।

নাকের নিচের পয়েন্ট

নাক ও উপরের ঠোঁটের মাঝের ছোট খাঁজে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে আঙুল দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে বৃত্তাকারে মালিশ করলে বারবার খাওয়ার ইচ্ছা কমতে পারে। প্রতিদিন ২ থেকে ৫ মিনিট এই পদ্ধতি করলে বিপাকক্রিয়া উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং খাবার হজমও দ্রুত হতে পারে।

কনুইয়ের প্রেশার পয়েন্ট

কনুই ভাঁজ করলে তার শেষ প্রান্তে একটি প্রেশার পয়েন্ট পাওয়া যায়। সেখানে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দিয়ে প্রায় ২ থেকে ৩ মিনিট চাপ দিলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত জল বের হতে সহায়তা করতে পারে এবং হজম শক্তিও উন্নত হতে পারে।

হাঁটুর প্রেশার পয়েন্ট

হাঁটুর নিচ থেকে প্রায় চার আঙুল নিচে বাইরের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট রয়েছে। এই জায়গায় প্রতিদিন সকালে ও রাতে ৯ বার ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং ৯ বার বিপরীত দিকে মালিশ করলে পাকস্থলীর কার্যকারিতা ভালো হতে পারে।

গোড়ালির প্রেশার পয়েন্ট

গোড়ালির হাড় থেকে প্রায় তিন আঙুল উপরে একটি স্নায়ু কেন্দ্র থাকে। সেখানে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দিয়ে ১ থেকে ২ মিনিট চাপ দিয়ে রাখলে পা ও পেটের ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যাও কমতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, আকুপ্রেশার করার সময় খুব বেশি জোরে চাপ দেওয়া উচিত নয়। আবার খুব হালকাও হওয়া উচিত নয়। একেবারে খালি পেটে বা খাওয়ার পরপরই এই পদ্ধতি করা ঠিক নয়।

এছাড়া যাদের দীর্ঘদিনের কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের পদ্ধতি শুরু করার আগে প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, আকুপ্রেশার সহায়ক পদ্ধতি হতে পারে, কিন্তু ওজন কমাতে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক