হিন্দু ধর্মে Akshaya Tritiya অত্যন্ত পবিত্র ও শুভ দিন হিসেবে বিবেচিত। এই তিথিতে নতুন কিছু শুরু করা, বিশেষত সোনা বা রুপো কেনা, বহু মানুষের কাছে শুভ মনে করা হয়। চলতি বছরে বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে এই উৎসব পালিত হবে।
তবে বৃন্দাবনের খ্যাতনামা সাধক Premanand Maharaj এই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে এক গভীর আধ্যাত্মিক বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, শুধুমাত্র বস্তুগত দান বা কেনাকাটার মধ্যে এই দিনের মাহাত্ম্য সীমাবদ্ধ নয়—বরং এর আসল তাৎপর্য লুকিয়ে আছে ভক্তি ও নামস্মরণে।
‘সর্বশ্রেষ্ঠ দান’ কী বললেন মহারাজ?
সাধারণত এই দিনে মানুষ খাদ্য, জল বা অর্থ দান করেন। কিন্তু মহারাজের মতে, এগুলোর থেকেও অনেক বড় দান হল ভগবানের নাম জপ করা।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, যদি কেউ আন্তরিকভাবে “রাধা” বা ঈশ্বরের নাম জপ করেন এবং সেই ধ্বনি অন্য কোনও দুঃখী মানুষের কানে পৌঁছায়, তবে তা তার মানসিক অন্ধকার দূর করতে পারে। এই ধরনের আধ্যাত্মিক সহায়তাকেই তিনি সর্বোচ্চ দান হিসেবে তুলে ধরেছেন।
অক্ষয় তৃতীয়ায় পালনযোগ্য ৩টি বিশেষ নিয়ম
১. নীরবতা বজায় রাখা
মহারাজের মতে, অপ্রয়োজনীয় কথা, বিতর্ক বা তর্ক এড়িয়ে চলা উচিত। নীরবতা মানসিক শক্তি সঞ্চয় করে এবং মনকে ভক্তিমুখী করে তোলে।
২. বাইরের খাবার ও জল এড়িয়ে চলা
এই দিনে বাইরে খাওয়া বা জল পান না করে, ঘরে ঈশ্বরকে নিবেদন করা খাবার প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এতে মন ও শরীর উভয়ই পবিত্র থাকে।
৩. নিয়মিত নামজপ
অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে যত বেশি সম্ভব ভগবানের নাম স্মরণ করা উচিত। এতে পরিবেশ ইতিবাচক হয় এবং মানসিক শান্তি বৃদ্ধি পায়।
সোনা কেনা সম্ভব না হলে কী করবেন?
অনেকেই মনে করেন এই দিনে সোনা কেনা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু Premanand Maharaj স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই।
তিনি বলেন—
যব (বার্লি) কেনা বা দান করলেও সমান পুণ্য লাভ হয়
মাটির পাত্রে জল ভরে তৃষ্ণার্ত মানুষকে পান করানো অত্যন্ত শুভ কাজ
এই সহজ কাজগুলোই প্রকৃত ধর্মীয় মূল্যবোধকে প্রকাশ করে।
আধ্যাত্মিকতার দিকেই জোর
মহারাজের বক্তব্যে পরিষ্কার, অক্ষয় তৃতীয়ার মূল লক্ষ্য বাহ্যিক চাকচিক্য নয়, বরং অন্তরের শুদ্ধতা। ভক্তি, সংযম এবং মানবসেবার মাধ্যমে এই দিনটিকে অর্থবহ করে তোলাই আসল উদ্দেশ্য।
অর্থাৎ, সোনা কেনা নয়—একটি পবিত্র মন, ঈশ্বরের নাম এবং অন্যের কল্যাণে সামান্য প্রচেষ্টাই এই দিনের প্রকৃত মাহাত্ম্যকে উপলব্ধি করায়।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.