Annular solar eclipse 2026: অ্যানুলার সূর্যগ্রহণে অ্যান্টার্কটিকায় দেখা যাবে ‘রিং অব ফায়ার’, কিন্তু দেখবে খুব কম মানুষ

২০২৬ সালের প্রথম বড় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা ঘটতে চলেছে ১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার। এদিন সংঘটিত হবে একটি অ্যানুলার সূর্যগ্রহণ, যা সাধারণভাবে ‘রিং অব ফায়ার’ নামে পরিচিত। তবে এই দৃষ্টিনন্দন মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ প্রায় কারওই হবে না, কারণ গ্রহণের মূল দৃশ্যমান অঞ্চল পড়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকায়।

কী এই অ্যানুলার সূর্যগ্রহণ?

অ্যানুলার সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ সূর্যের বেশিরভাগ অংশ ঢেকে দেয়, কিন্তু সম্পূর্ণ ঢাকতে পারে না। ফলে সূর্যের প্রান্তে একটি উজ্জ্বল আগুনের বলয়ের মতো অংশ দৃশ্যমান থাকে। এই বলয় আকৃতির দৃশ্য থেকেই এর নাম হয়েছে ‘রিং অব ফায়ার’।

১৭ ফেব্রুয়ারির গ্রহণটি সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড স্থায়ী হবে। এই সময় সূর্যের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যাবে অ্যান্টার্কটিকার নির্দিষ্ট অঞ্চলে, ফলে সেখানে প্রায় সম্পূর্ণ অন্ধকার নেমে আসবে।

কোথায় দেখা যাবে এই গ্রহণ?

এই সূর্যগ্রহণ আংশিকভাবে দেখা যাবে অ্যান্টার্কটিকা, দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ প্রান্ত এবং আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে। তবে ‘রিং অব ফায়ার’-এর পূর্ণ দৃশ্য দেখা যাবে কেবল অ্যান্টার্কটিকার এক দূরবর্তী অঞ্চলে।

গ্রহণের অ্যানুলার পথটি প্রায় ৪,২৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৬১৬ কিলোমিটার প্রশস্ত এলাকা জুড়ে বিস্তৃত থাকবে। সূর্য মূল ভূখণ্ড অ্যান্টার্কটিকার ওপর দিয়ে উদিত হয়ে ডেভিস সি উপকূলের দিকে অস্ত যাবে। চাঁদের অ্যান্টাম্ব্রাল ছায়া পৃথিবীর উপর দিয়ে অতিক্রম করবে প্রায় ৫৯ মিনিটে।

কেন প্রায় কেউই দেখতে পাবে না?

গ্রহণ বিশেষজ্ঞ জে অ্যান্ডারসনের মতে, অ্যানুলার ছায়ার পথে মাত্র দুটি জনবসতিপূর্ণ স্থান রয়েছে—তাও গবেষণা কেন্দ্র। এবং এই স্থানগুলো পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত নয়। অর্থাৎ, এই বিরল ‘রিং অব ফায়ার’ মূলত দেখতে পাবে গবেষক ও অ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইনরা!

সেরা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র: কনকর্ডিয়া স্টেশন

ফরাসি-ইতালীয় যৌথ গবেষণা কেন্দ্র কনকর্ডিয়া স্টেশন, যা ২০০৫ সাল থেকে চালু রয়েছে, হবে এই গ্রহণ দেখার প্রথম এবং সেরা জনবসতিপূর্ণ স্থান। এখানে বর্তমানে মাত্র ১৬ জন বিজ্ঞানী বসবাস করেন।

এটি অ্যান্টার্কটিকার অভ্যন্তরে অবস্থিত তিনটি স্টেশনের একটি। শীতকালে এখানে তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। স্টেশনটিতে রয়েছে বায়ুমণ্ডলীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য উচ্চ টাওয়ার, ভূগর্ভস্থ ভল্ট, দুটি পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম, টেলিস্কোপ এবং একটি এয়ারস্ট্রিপ।

আরও পড়ুন:রাহু–সূর্য সংযোগে গ্রহণ যোগ, তবু সৌভাগ্যের ইঙ্গিত চার রাশিতে

তবে আবহাওয়াই হতে পারে প্রধান বাধা। এই সময়ে মূল অ্যান্টার্কটিকায় প্রায় ৩৫ শতাংশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার সম্ভাবনা থাকে। তবুও কনকর্ডিয়ার বিজ্ঞানীদেরই সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে গ্রহণটি দেখার।

মিরনি স্টেশনেও দেখা যাবে

কনকর্ডিয়ার পর গ্রহণ দৃশ্যমান হবে রাশিয়ার মিরনি স্টেশনে। ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গবেষণা কেন্দ্রটি কুইন মেরি ল্যান্ডে, ডেভিস সি উপকূলে অবস্থিত। এখানে বিজ্ঞানীরা জলবায়ু, সমুদ্রবরফ, কসমিক রশ্মি, আবহাওয়া, হিমবিজ্ঞান এবং জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা করেন।

তবে মিরনি স্টেশনে ওই সময়ে প্রায় ৬৫ শতাংশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে গ্রহণ দেখার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।

শেষ কথা

প্রকৃতির এই অনন্য দৃশ্য ২০২৬ সালের অন্যতম আকর্ষণীয় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা হলেও, পৃথিবীর প্রায় সব মানুষই তা সরাসরি দেখতে পারবেন না। দুর্গম অ্যান্টার্কটিকার গবেষণা কেন্দ্রের অল্প কয়েকজন বিজ্ঞানী—যদি আবহাওয়া সহায় হয়—তাহলেই কেবল দেখা মিলবে বিরল ‘রিং অব ফায়ার’-এর।

মানবচক্ষুর আড়ালেই মহাবিশ্ব তার মহিমা মেলে ধরবে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক