Lifestyle: শরীরের প্রদাহ বাড়লে ওজনও বাড়তে পারে! সুস্থ থাকতে কেমন হবে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস?

প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি বজায় থাকলে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে বারবার গ্যাস-অম্বল, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব, শরীরব্যাপী অস্বস্তি কিংবা অকারণ ওজন বৃদ্ধি প্রদাহের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই শুধুমাত্র ওষুধের উপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণ, আঘাত বা শরীরের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যা চলতে থাকলে হজমের গোলমাল, ক্লান্তি, শরীরে ব্যথা এবং বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতার উপরও প্রভাব পড়তে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় এমন খাবার রাখা প্রয়োজন, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

প্রদাহনাশক খাদ্যাভ্যাসে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় প্রোটিন, ফাইবার, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং বিভিন্ন ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবারকে। বিশেষ করে ভিটামিন এ, সি, ই এবং কে সমৃদ্ধ খাবার শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রদাহ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।

Lifestyle: শরীরের প্রদাহ বাড়লে ওজনও বাড়তে পারে! সুস্থ থাকতে কেমন হবে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস?
Lifestyle: শরীরের প্রদাহ বাড়লে ওজনও বাড়তে পারে! সুস্থ থাকতে কেমন হবে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস?

হলুদ বা কমলা রঙের ফল যেমন পেঁপে, আম এবং অন্যান্য মৌসুমি ফলে ভিটামিন এ পাওয়া যায়। ডিমের কুসুমও এই পুষ্টির একটি ভালো উৎস। অন্যদিকে আমলকি, পেয়ারা, কমলালেবু বা কাঁচা আমে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে, যা শরীরকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

সবুজ শাকসবজি যেমন পালং শাক, সর্ষে শাক কিংবা অন্যান্য পাতাযুক্ত সবজিতে রয়েছে ভিটামিন কে এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এগুলি শরীরের কোষকে সুস্থ রাখতে এবং প্রদাহ কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজও এই খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এগুলিতে থাকা ভিটামিন ই কোষের ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে চিয়া বীজ, তিসি, সয়াবিন এবং কিছু মাছ থেকে পাওয়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে বিশেষভাবে উপকারী বলে মনে করা হয়। পমফ্রেট, ইলিশ, রুই বা কাতলার মতো মাছও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

শুধু পুষ্টিকর খাবার খেলেই হবে না, শস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। পরিশোধিত শর্করার পরিবর্তে রাগি, ওটস, কিনোয়া, ব্রাউন রাইস বা শ্যামা চালের মতো বিকল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে। এগুলিতে ফাইবার বেশি থাকায় হজম ভালো হয় এবং রক্তে শর্করার ওঠানামাও তুলনামূলক কম হয়।

প্রদাহ কমাতে চাইলে অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা। প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, সফট ড্রিংক, অতিরিক্ত মিষ্টি এবং উচ্চমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাদ্য শরীরে প্রদাহের মাত্রা বাড়াতে পারে।

এ ছাড়া দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় আদা ও কাঁচা হলুদ যুক্ত পানীয় রাখা যেতে পারে। এই দুটি উপাদানে এমন কিছু প্রাকৃতিক যৌগ রয়েছে, যা প্রদাহ কমাতে সহায়ক বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুম— এই চারটি অভ্যাস একসঙ্গে বজায় রাখতে পারলে প্রদাহজনিত নানা সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেকটাই সহজ হতে পারে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক