বরানগর শ্যুটআউট কাণ্ডে দিন গড়াতেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে উঠে এসেছে, নিজের স্বামীকে সরিয়ে দিতে প্রেমিক পিসেমশাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে পরিকল্পনা করেছিলেন স্ত্রী। সেই পরিকল্পনাকেই কার্যরূপ দিতে মেটিয়াবুরুজ থেকে ভাড়াটে খুনি আনা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। ইতিমধ্যেই স্ত্রী, তাঁর পিসেমশাইসহ মোট চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল ২১ নভেম্বর?
২১ নভেম্বর বিকেলে বরানগর থানা এলাকার নর্দান পার্কে বিকাশ মজুমদারের দিকে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। সৌভাগ্যবশত গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং প্রাণে বেঁচে যান বিকাশবাবু। ঘটনার পর মোটরসাইকেলে চেপে পালিয়ে যায় আততায়ীরা। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে হামলাকারীর স্পষ্ট ছবি, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেয়।
তদন্তে ওঠে আসে পরকীয়ার গল্প
পুলিশি জেরা ও প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বিকাশবাবুর স্ত্রী রেখা পাত্রের সঙ্গে তাঁরই পিসোমশাই প্রদীপ দে–র অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কে ‘বাধা’ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বিকাশ মজুমদার। সেই কারণেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে দাবি, রেখা পাত্র ও প্রদীপ দে মিলে মেটিয়াবুরুজ এলাকা থেকে ভাড়াটে খুনি মহম্মদ শামিম লস্করকে সুপারি দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী মোটরসাইকেলে নিয়ে যায় চালক সুশান্ত আদক।
গ্রেফতার চার জন
পুলিশ ইতিমধ্যেই যে চার জনকে গ্রেফতার করেছে—
রেখা পাত্র — আক্রান্ত বিকাশ মজুমদারের স্ত্রী
প্রদীপ দে — অভিযুক্ত পিসোমশাই ও প্রেমিক
মহম্মদ শামিম লস্কর — ভাড়াটে সুপারি কিলার
সুশান্ত আদক — মোটরসাইকেল চালক
ধৃতদের আজই ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
তদন্তকারীদের দাবি, এটি শুধুই দাম্পত্য কলহ নয়; দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্কে স্বামী ছিল বড় বাধা। সেই বাধা দূর করতেই পুরো খুনের চক্রান্ত। সুপরিকল্পিত এই হামলা ব্যর্থ হওয়ায় এখন পুলিশের হাতে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে। ধৃতদের জেরা করে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
বরানগর এলাকায় এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের আলোয় এমন হামলা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।
আরও পড়ুন
কসবা হোটেলে আদর্শের রহস্যমৃত্যুতে নতুন চাঞ্চল্য

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.