আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় অনেকেই সকালবেলা কাজের চাপ, যানজট বা গৃহস্থালির কারণে নিয়মিত জলখাবার খেতে পারেন না। এই অভ্যাসকে অনেকেই তেমন গুরুত্ব না দিলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে—সকালের খাবার বাদ দেওয়ার অভ্যাস শরীরে একাধিক নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটায়, যা দীর্ঘমেয়াদে হতে পারে ভয়াবহ।

অতিরিক্ত খিদে এবং উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা

সকালে না খেলে কিছুক্ষণ পরেই তীব্র খিদের অনুভূতি তৈরি হয়। স্বাভাবিকভাবেই তখন দ্রুত পেট ভরানোর জন্য ভাজা, মিষ্টি বা বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবার বেছে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এতে ওজন বাড়ার পাশাপাশি পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হয়।
ইনসুলিন ও রক্তে শর্করার মাত্রায় গোলমাল
সকালের খাবার না খাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে রক্তে ইনসুলিনের ওঠানামায়। যখন ইনসুলিনের স্তর হঠাৎ কমে বা বেড়ে যায়, তখন রক্তে শর্করাও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই বৃদ্ধি পায়।
কোলেস্টেরল বৃদ্ধি ও হৃদরোগের ঝুঁকি
নিয়মিত জলখাবার বাদ দিলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে থাকে। বাড়তি কোলেস্টেরল ধমনীতে জমে গিয়ে হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায়। পাশাপাশি খাবার না খাওয়ার ফলে দেহে মেটাবলিক চাপ তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হার্টের সমস্যা ডেকে আনতে পারে।
মেটাবলিক সিন্ড্রোমের সম্ভাবনা
জলখাবার এড়িয়ে যাওয়া ধীরে ধীরে মেটাবলিক সিন্ড্রোমের দিকে ঠেলে দেয়। এর মধ্যে রয়েছে—পেটের মেদ জমা, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করার অস্বাভাবিক ওঠানামা। এগুলোই ভবিষ্যতে গুরুতর অসুখের রূপ নিতে পারে।
শক্তি কমে যাওয়া ও মনোযোগের ঘাটতি
সকালের খাবার শরীরের প্রথম জ্বালানি। তা না পেলে সকালের কাজের সময় ক্লান্তি, মনমরা ভাব, খিটখিটে মেজাজ এবং মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে। ফলে কর্মক্ষমতাও কমে যায়।
ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি
স্থানীয় খাবার বাদ দিয়ে দুপুরে বা বিকেলে অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এতে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে থাকে এবং ওজন দ্রুত বাড়তে থাকে।
সারসংক্ষেপ
সকালের জলখাবার বাদ দেওয়ার অভ্যাস শরীরের মেটাবলিজম থেকে শুরু করে রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল এবং মানসিক সতেজতা—সবকিছুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সুস্থ থাকতে দিনের শুরুতেই পুষ্টিকর খাবার খাওয়াটা অত্যন্ত জরুরি।

