ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়েই দুর্দান্ত নতুন কিছু তৈরির কান্ডকারখানা ঘটিয়ে চমকে দিলেন হলদিয়ার এক যুবক। দৈনন্দিন জীবনে এমন অনেক জিনিস রয়েছে যেগুলি আমরা অদরকারী বলে ফেলে দিই। কিন্তু সেই জিনিসই দরকারী হয়ে উঠতে পারে সামান্য হাতের ছোঁয়ায়। বাড়ির পরিত্যক্ত জিনিসপত্র, বর্জ্য পদার্থ, ফল ও সবজির খোসা এসব জিনিস আমরা বরাবর ফেলে দিই। কিন্তু এই জিনিস দিয়েই ওই যুবক বানিয়ে ফেলেছেন ফুলের তোড়া থেকে শুরু করে দেওয়ালে ঝোলানো রাধাকৃষ্ণের ছবি।
যা দেখার পর চোখ ছানাবড়া হতে বাধ্য। পরিত্যক্ত জিনিস যা দিয়ে ওই যুবক দুর্দান্ত সব ঘর সাজানোর জিনিস বানিয়ে ফেলেছেন। আর তার কাজে সাড়া পড়ে গিয়েছে চারিদিকে। জানা গিয়েছে, ওই যুবক হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার তিনি। ওই যুবকের নাম পবিত্র দাস এবং বয়স ৩৫ বছর। জানা যাচ্ছে, তার এই কাজের জন্য স্বরূপ ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসের পাশাপাশি আমেরিকা বুক অফ রেকর্ডসের সম্মানও অর্জন করেছেন তিনি৷
জানা যাচ্ছে, তার এই কাজের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকেও শুভেচ্ছা পেয়েছেন। হাতে সময় থাকলেই তিনি বানিয়ে ফেলেন নানান শিল্পকর্ম। তার অন্যতম লক্ষ্য হল পরিত্যক্ত জিনিসকে পুনরায় কাজে লাগানো এবং দূষণমুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলা। আর তাই তিনি বর্জ্য পদার্থ দিয়েই নানান ঘর সাজানোর উপকরণ বানিয়ে ফেলেন।
প্লাস্টিক কিংবা ফেলে দেওয়া জিনিস পুনরায় ব্যবহার করে কাজে লাগানোর ভাবনা পরিবেশ সুরক্ষার পক্ষে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই কালো প্লাস্টিকের উপর তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন ২২ ইঞ্চি চওড়া ও ১৪ ইঞ্চি লম্বা পরিসরের রাধাকৃষ্ণ। তার বানানো হাতের কাজের মধ্যে যে জিনিসগুলি ব্যবহার হয় তা হল ডিম, রসুন, পেঁয়াজ, লেবুর খোসা ইত্যাদি।
এর পাশাপাশি খড়, নারকেল ছোবড়া, ধনে গাছের শিকড়-সহ ১৪ রকমের ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র তিনি ব্যবহার করেছেন। পবিত্র দাস ডাবের মাথার অংশ দিয়ে গ্লাডিওলাস ফ্লাওয়ার, খড় দিয়ে বল পেন, শুকনো ফুল দিয়ে রাখি, কানের দুল, গলার হার তৈরি করেছেন। আর এই আবিষ্কারে সকলেই চমকে গিয়েছেন। তিনি ছোট্ট প্রদীপ বানিয়ে তাতে বসিয়েছেন ২ ইঞ্চি পরিসরের সোলার প্যানেল। তাতে উৎপন্ন হয় সৌরবিদ্যুৎ। তার এই কর্মকাণ্ডে তার পরিবারের সকলে খুশি।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.