সুন্দর হওয়ার ইচ্ছা মানুষের চিরকালের। কিন্তু ছুরি-কাঁচির সাহায্যে রূপবদলের পর সেই চেহারা যদি মনপসন্দ না হয়, তা হলে কি আর ফেরার উপায় নেই? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সমাজমাধ্যমে। বিশেষ করে, এস্থেটিক স্পেশ্যালিস্ট সার্জন নৃপেন্দ্র গুহকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
২৬ জানুয়ারি কলকাতায় নিজের প্রথম ক্লিনিক উদ্বোধন করতে গিয়েই ট্রোলের শিকার হন নৃপেন্দ্র। অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্রের সঙ্গে তোলা একটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর তাঁর মুখের অস্বাভাবিক ফোলাভাব নিয়ে শুরু হয় কটাক্ষ। এই ঘটনার পর আনন্দবাজার ডট কমের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনায় এস্থেটিক সার্জারির নানা দিক তুলে ধরেন তিনি।
কলকাতার ছেলে নৃপেন্দ্র গুহ প্রায় ২০ বছর ধরে এস্থেটিক সার্জারির সঙ্গে যুক্ত। রাশিয়া থেকে এমবিবিএস পাশ করার পর দুবাই ও আয়ারল্যান্ড থেকে এস্থেটিক সার্জারিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন তিনি। তাঁর দাবি, টলিপাড়া ও বলিউডের বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী তাঁর কাছে বিভিন্ন ধরনের এস্থেটিক ট্রিটমেন্ট করিয়েছেন।
এস্থেটিক সার্জারির সবচেয়ে বড় ভয়—পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। এই প্রসঙ্গে নৃপেন্দ্র স্পষ্ট করে বলেন, এস্থেটিক সার্জারিতে ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’ শব্দটি ঠিক প্রযোজ্য নয়। তাঁর কথায়, “আমরা যে ট্রিটমেন্টগুলো করি, সেগুলি সবই এফডিএ অনুমোদিত। যেকোনো অস্ত্রোপচারের পর যেমন শরীরের সুস্থ হতে সময় লাগে, এ ক্ষেত্রেও তাই। একে বলে হিলিং টাইম।”
ক্লিনিক উদ্বোধনের আগে নিজে একটি মেশিন-বেসড সার্ভিস নেওয়ার ফলে মুখে প্রদাহ হয়েছিল নৃপেন্দ্রের। সেই অভিজ্ঞতা অকপটে স্বীকার করে তিনি বলেন, অতিরিক্ত সুন্দর হওয়ার লোভেই তিনি সেই সার্ভিসটি নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে বুঝতে পারেন, সেটি তাঁর মুখে মানাচ্ছে না। ফলস্বরূপ, নিজেই ফিলার রিমুভ করেন এবং ধীরে ধীরে আগের চেহারায় ফিরে আসেন।
নৃপেন্দ্রের মতে, সালোঁয় ফেশিয়াল করালেও অনেক সময় মুখে র্যাশ বা অ্যালার্জি দেখা দেয়, তবু মানুষ ফেশিয়াল করানো বন্ধ করেন না। এস্থেটিক সার্জারিও তেমনই—এটি কোনও ম্যাজিক নয়, বরং একটি চিকিৎসা পদ্ধতি, যার জন্য সময় ও ধৈর্য প্রয়োজন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এস্থেটিক সার্জারির ফল যদি পছন্দ না হয়, তা হলে কি আগের রূপে ফেরা যায়? নৃপেন্দ্র গুহ স্পষ্ট জানান, হ্যাঁ, বেশির ভাগ এস্থেটিক ট্রিটমেন্টই রিভার্সেবল। তাঁর কথায়, “অনেকেই বাইরে থেকে ভুল ট্রিটমেন্ট করিয়ে আমাদের কাছে আসেন। আমরা তাঁদের আগের চেহারায় ফিরিয়ে দিতে পারি। তবে এর জন্য দক্ষ চিকিৎসক বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও জানান, কোনও ক্লায়েন্টের দাবি যদি বাস্তবসম্মত বা তাঁর শরীরের জন্য উপযুক্ত না হয়, তা হলে সেই ট্রিটমেন্ট তিনি করেন না। বরং যা প্রয়োজন, সেটার পরামর্শ দেন। কারণ সৌন্দর্য মানেই শুধু বদল নয়, বরং ভারসাম্য।
সবশেষে নৃপেন্দ্রের বার্তা স্পষ্ট—এস্থেটিক সার্জারি করানো মানেই ঝুঁকি নয়, আবার রাতারাতি ফলের আশা করাও ভুল। সচেতন সিদ্ধান্ত, অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং ধৈর্য—এই তিনেই নিরাপদ ও সন্তোষজনক রূপবদলের চাবিকাঠি।