যত দিন যাচ্ছে, ততই স্মার্টফোন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে। সমাজমাধ্যমে নিরন্তর স্ক্রল করা, দীর্ঘ সময় গেম খেলা কিংবা অহেতুক স্ক্রিনে চোখ আটকে রাখার প্রবণতা এখন সর্বত্রই চোখে পড়ে—হাটে, বাজারে, রাস্তায় বা গণপরিবহণে। এই ক্রমবর্ধমান আসক্তির বিরুদ্ধেই এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন তিন বন্ধু। তাঁদের তৈরি নতুন ধরনের স্মার্টফোন ‘ক্লিক কমিউনিকেটর’ প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই ডিভাইসটির মূল উদ্দেশ্য একটাই—ব্যবহারকারীদের অকারণ স্ক্রলিং অভ্যাস কমানো। ‘ক্লিক কমিউনিকেটর’ মূলত একটি কি-প্যাডযুক্ত মুঠোবন্দি ডিভাইস, যা আধুনিক স্মার্টফোনের ধারণাকেই কিছুটা উল্টে দিয়েছে। যাঁরা সারাদিন টাচ স্ক্রিনে টাইপ করতে করতে ক্লান্ত, তাঁদের জন্য এই ফোন হতে পারে এক আদর্শ বিকল্প। এখানে কাজের গতি যেমন বজায় থাকবে, তেমনই অযথা স্ক্রিনে সময় নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কমবে।
এই ফোনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর বিশেষ কি-প্যাড। প্রয়োজনে এই কি-প্যাডকে ট্র্যাক প্যাডে রূপান্তর করা যাবে। ফলে স্ক্রিনে আঙুল না ছুঁয়েই স্ক্রল করা সম্ভব হবে। শুধু স্ক্রলিং নয়, আরও নানা ধরনের কাজ সহজেই করা যাবে এই ট্র্যাক প্যাডের সাহায্যে। নির্মাতাদের দাবি, এতে ব্যবহারকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর রেখেও দিনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ নির্বিঘ্নে সেরে নিতে পারবেন।
ফিচারের দিক থেকেও পিছিয়ে নেই ‘ক্লিক কমিউনিকেটর’। ফোনটিতে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, টাইপ-সি চার্জিং পোর্ট এবং আধুনিক অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড ১৬। অর্থাৎ, এটি দেখতে পুরনো দিনের ফোনের মতো হলেও প্রযুক্তিগত দিক থেকে পুরোপুরি নতুন যুগের।
ডিজাইনের ক্ষেত্রে এই ফোনের সঙ্গে অনেকেই পুরনো ব্ল্যাকবেরি ডিভাইসের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। একসময় যাঁরা কি-প্যাড ফোনের ভক্ত ছিলেন, তাঁদের কাছে এই নকশা নিঃসন্দেহে নস্টালজিয়া জাগাবে। আইফোন বা পিক্সেল ফোনের একঘেয়েমি কাটিয়ে কিছু আলাদা খুঁজছেন—এমন গ্রাহকদের কাছে ‘ক্লিক কমিউনিকেটর’ হয়ে উঠতে পারে স্বাভাবিক পছন্দ।
ইতিমধ্যেই এই ফোনের প্রি-বুকিং শুরু হয়ে গিয়েছে। আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য প্রি-বুকিং মূল্য ধার্য করা হয়েছে ৫০০ ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৫,১৩৫ টাকা। চলতি বছরের গোড়াতেই বাজারে আসার কথা এই অভিনব ডিভাইসটির। এখন দেখার, সত্যিই কি স্মার্টফোনের বাজারে ঝড় তুলতে পারে কি-প্যাডযুক্ত এই ‘ক্লিক কমিউনিকেটর’।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.