বর্তমান সময়ে বাড়ির পরিবেশ সুন্দর, সতেজ ও স্বাস্থ্যকর রাখতে ইন্ডোর প্ল্যান্ট ব্যবহারের প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। শহুরে জীবনে যেখানে খোলা প্রকৃতির ছোঁয়া কম, সেখানে ঘরের ভেতর গাছ রাখাই হয়ে উঠছে মানসিক শান্তি ও সৌন্দর্য বাড়ানোর অন্যতম উপায়। এই ইন্ডোর প্ল্যান্টগুলির মধ্যে কয়েন প্ল্যান্ট বা ক্র্যাসুলা প্ল্যান্ট বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
কয়েন প্ল্যান্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল—এই গাছের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত সহজ। অল্প জল, সামান্য রোদ এবং সাধারণ মাটিতেই এই গাছ দীর্ঘদিন সবুজ ও সতেজ থাকে। তাই যাঁরা নতুন করে গাছ লাগাতে চান বা যাঁদের নিয়মিত পরিচর্যার সময় কম, তাঁদের কাছে কয়েন প্ল্যান্ট প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে।
বাস্তু শাস্ত্র অনুযায়ী, কয়েন প্ল্যান্টকে সৌভাগ্য ও অর্থ আকর্ষণের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই গাছ ঘরে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাড়ায় এবং আর্থিক স্থিতি উন্নত করতে সাহায্য করে। সেই কারণেই অনেকেই ঘরের ভেতরে, বারান্দায় বা জানালার পাশে কয়েন প্ল্যান্ট রাখতে পছন্দ করেন।
যদিও এটি একটি ইন্ডোর প্ল্যান্ট, তবুও প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা প্রাকৃতিক আলো কয়েন প্ল্যান্টের জন্য অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত রোদ পেলে গাছের পাতা হয় গাঢ় সবুজ ও চকচকে। তাই বাড়ির এমন জায়গায় এই গাছ রাখা উচিত, যেখানে সকালের নরম রোদ সহজে পৌঁছায়।
জল দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। কয়েন প্ল্যান্ট খুব বেশি জল পছন্দ করে না। টবে জল জমে থাকলে শিকড় পচে যেতে পারে, আবার দীর্ঘদিন জল না পেলে গাছ শুকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই জল বেরোনোর সুবিধাযুক্ত টব ব্যবহার করা এবং মাটি শুকনো হলে তবেই জল দেওয়া সবচেয়ে ভালো।
এই গাছের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে মাটির গুণমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঝরঝরে ও পুষ্টিকর মাটি কয়েন প্ল্যান্টের বৃদ্ধিতে সহায়ক। পটিং মিক্সের সঙ্গে জৈব সার, ভার্মিকম্পোস্ট বা গোবর সার মিশিয়ে ব্যবহার করলে গাছ দ্রুত ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে।
পোকামাকড়ের সমস্যা এড়াতে রাসায়নিকের বদলে প্রাকৃতিক উপায় ব্যবহার করাই শ্রেয়। নিমের তেল এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর। একটি স্প্রে বোতলে জল নিয়ে তাতে দুই চামচ নিমের তেল মিশিয়ে সপ্তাহে এক-দু’বার গাছে স্প্রে করলে পোকামাকড় দূরে থাকে এবং গাছ সুস্থ থাকে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সঠিক রোদ, পরিমিত জল, ভালো মাটি ও সামান্য যত্ন—এই চারটি বিষয় মেনে চললেই কয়েন প্ল্যান্ট দীর্ঘদিন সবুজ ও সুন্দর থাকবে। ঘরের সৌন্দর্য যেমন বাড়বে, তেমনই বাস্তু মতে এই গাছের মাধ্যমে ঘরে আসতে পারে ইতিবাচক শক্তি ও আর্থিক শুভ ফল
(Disclaimer: এখানে দেওয়া তথ্য জ্যোতিষশাস্ত্রের সাধারণ বিশ্বাস ও তথ্যের উপর ভিত্তি করে লেখা। সংবাদ ভবন এটি নিশ্চিৎ করে না।)