বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র সত্যিই রাজার মতোই জীবন কাটিয়েছিলেন—এমনই মত তাঁর অনুরাগীদের। ৮৯ বছর বয়সে অভিনেতার শান্ত প্রস্থানও যেন সেই আভিজাত্যেরই প্রতিচ্ছবি। তবে ভক্তদের আক্ষেপ, শেষ যাত্রায় তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ তারা পাননি। নিঃশব্দে সম্পন্ন হয়েছে এই তারকার শেষকৃত্য।
ধর্মেন্দ্রের প্রয়াণে তাঁর দুই পুত্র সানি দেওল এবং ববি দেওল আয়োজন করেছিলেন এক প্রার্থনাসভার। মুম্বইয়ের একটি পাঁচতারা হোটেলে অনুষ্ঠিত সেই সভায় বলিউডের বহু তারকা উপস্থিত থাকলেও চোখে পড়েছে একটি বড় অনুপস্থিতি—ধর্মেন্দ্রের দ্বিতীয় স্ত্রী হেমা মালিনী এবং তাঁদের কন্যা এশা ও আহানা দেওলকে দেখা যায়নি।
এই অনুপস্থিতি ঘিরে বলিউডমহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। অনেকেই ছুঁড়ে দিয়েছেন প্রশ্ন—কেন হেমা এবং তাঁর মেয়েরা হাজির হলেন না স্বামীর এই আনুষ্ঠানিক স্মরণসভায়?
উত্তর মিলেছে পরে। জানা গিয়েছে, ধর্মেন্দ্রর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হেমা মালিনী নিজের বাসভবনেই আয়োজন করেছিলেন পৃথক প্রার্থনাসভার। সেখানে দেখা গিয়েছে মহিমা চৌধুরী, সুনীতা আহুজা ও তাঁর ছেলে যশবর্ধনসহ আরও কয়েকজন সেলিব্রিটিকে। এশা দেওলের প্রাক্তন স্বামী ভরত তাখতানিকেও দেখা গেছে হেমার বাড়ির বাইরে।
সুনীতা আহুজার কথায়, হেমাজি বাড়িতে ভগবত গীতা পাঠ, পুজো এবং ভজন সন্ধ্যার আয়োজন করেছিলেন। তিনি নিজেও আবেগ সামলাতে পারেননি—“হেমাজির সামনে কান্না থামাতে পারছিলাম না,” বলেন সুনীতা।
ধর্মেন্দ্র-হেমা সম্পর্ক বরাবরই বলিউডে আলোচনার কেন্দ্র। প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরকে ডিভোর্স না দিয়েই হেমাকে বিয়ে করেছিলেন অভিনেতা। তখন সানি দেওলের বয়স মাত্র ২৪। চার সন্তানের পিতা ধর্মেন্দ্র জানিয়েছিলেন—কোনওদিনই তিনি প্রথম পরিবারকে ছেড়ে যাবেন না। হেমাও সেই কথায় আস্থায় ভর করে মেনে নিয়েছিলেন শর্ত। এই দাম্পত্য় চলেছে দীর্ঘ ৪৫ বছর, কিন্তু এই সময়ে কখনও স্বামীর প্রথম পরিবারের সঙ্গে একই ছাদের নিচে থাকেননি হেমা। সতীন প্রকাশ কৌরের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়াও হয়নি কখনও।
ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণেও একই দৃশ্য। প্রার্থনাসভায় প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর, তাঁদের সন্তান সানি-ববি, অজিতা-বিজেতা এবং নাতি করণ-রাজবীর উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন অভিনেতা অভয় দেওলও। সানি ও ববিকে দেখা যায় চোখে জল নিয়ে দাঁড়ানো অবস্থায়। পাশে ছিলেন ঐশ্বর্য রাই, সলমন খান, মাধুরী দীক্ষিত, বিদ্যা বালান, শাবানা আজমি, জ্যাকি শ্রফ, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, সুনীল শেঠি, আমিশা প্যাটেলসহ বলিউডের আরও বহু তারকা।
অন্যদিকে, হেমা মালিনী আলাদা করে স্বামীর আত্মার শান্তি কামনায় নিয়ম মেনে আয়োজন করেন নিজের মতো করে। পরে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন আবেগঘন বার্তা—
“ধরমজি… তিনি ছিলেন আমার স্নেহময় স্বামী, আমাদের দুই মেয়ের নিবেদিত পিতা, আমার বন্ধু, দার্শনিক, পথপ্রদর্শক, কবি—আমার কাছে তিনি সবকিছু।”
আরও পড়ুন
ধর্মেন্দ্রকে শ্রদ্ধা জানাতে হেমা মালিনীর আলাদা প্রার্থনা সভা, কোন কোন তারকা ছিলেন উপস্থিত?
ধর্মেন্দ্রর শেষ বিদায়ে দুই পরিবারের আলাদা উপস্থিতি নতুন করে তুলেছে পুরোনো সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রশ্ন। তবে বলিউডের হি-ম্যানকে ঘিরে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা ভক্তদের কাছে অপূরণীয়ই থেকে যাবে।
আরও পড়ুন
‘দেওলদের প্রাপ্য সম্মান দেয়নি বলিউড’— ধর্মেন্দ্রর পুরোনো অভিমান ফের আলোচনায়

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.