বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্রকে হারানোর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি ভক্তরা। তাঁর অসীম সৌজন্যতা, বড় মনের পরিচয় এবং সহ-শিল্পীদের প্রতি সম্মান তাঁকে আলাদা করে দিয়েছিল। আর ঠিক সেই অভিজ্ঞতারই সাক্ষী ছিলেন বাঙালি অভিনেতা টোটা রায় চৌধুরী।
‘রকি অর রানি কি প্রেম কাহিনি’-তে ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা অধ্যায়—সম্প্রতি টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনই জানালেন টোটা। এই ছবিটি চলতি বছর জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছে।
“দূরে দূরে থাকতাম, উনিই ডাকতেন”—ধর্মেন্দ্রকে প্রথম দেখার প্রতিক্রিয়া
সাক্ষাৎকারে টোটা বলেন, প্রথমে ধর্মেন্দ্রকে দেখে তাঁর মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করত।
“এত বড় মাপের তারকা, তাই দূর থেকেই সমীহ করতাম। কিন্তু উনিই আমাকে ডেকে কাছে নিতেন,” বলেন অভিনেতা।
টোটা জানান, ধর্মেন্দ্রর মতো বড় মনের মানুষের মধ্যে কোনও অহংকার ছিল না। বরং তিনি সকলকে সহজভাবে গ্রহণ করতেন।
প্রথম দিনের প্রণাম ফিরিয়ে দিয়ে শিক্ষা
শুটিংয়ের প্রথম দিনের স্মৃতি এখনও স্পষ্ট টোটার মনে।
হাত দিয়ে প্রণাম করতে গেলে ধর্মেন্দ্র দ্রুত তাঁর হাত ধরে বলেন—
“পায়ে হাত দেবে না। হাত জোড় করে নমস্কার করবে।”
এক মুহূর্তেই বড় মনের পরিচয় দেন প্রবীণ অভিনেতা।
বাংলা শিল্পীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
ধর্মেন্দ্রর মতে সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী—অনেকেই বাংলার।
বাংলা সংস্কৃতি ও শিল্পকে তিনি অত্যন্ত সম্মান করতেন।
এ প্রসঙ্গে টোটা জানান, ধর্মেন্দ্র বহুবার বলেছেন তাঁর প্রিয় সহশিল্পীদের বড় একটি অংশই ছিলেন বাঙালি—
শর্মিলা ঠাকুর, রাখি গুলজার, জয়া বচ্চন, সুচিত্রা সেন—একজনের পর একজন কিংবদন্তি।
জয়া বচ্চন যেহেতু বাঙালি, সেই সূত্রে ধর্মেন্দ্রর বাংলার প্রতি আলাদা টান তৈরি হয়েছিল বহু আগেই।
আরও পড়ুন
‘আমার চোখের সামনেই পরিণতি পেল ধর্মেন্দ্র-হেমার প্রেম’: বন্ধু বিশুর স্মৃতিচারণে ঢেউ তুলল শোক
“উনি এলেই সেট প্রাণ পেত”—টোটার স্মৃতি
অভিনেতার কথায়, ধর্মেন্দ্রর উপস্থিতিতে সেটের পরিবেশ বদলে যেত।
“ওই মানুষটার মধ্যে এমন একটা পজিটিভিটি ছিল যে উনি এলেই সেট যেন প্রাণ পেত। কাউকে নিয়ে কোনও খারাপ কথা কখনও বলতেন না।”
ধর্মেন্দ্র নিজের সমস্যাকে দূরে সরিয়ে রেখে সবসময় উজ্জ্বল হাসি নিয়ে উপস্থিত হতেন।
সুচিত্রা সেন থেকে অগস্ত্য নন্দা—দীর্ঘ চলচ্চিত্র জীবনে বাঙালিদের অবদান
ধর্মেন্দ্রর চলচ্চিত্র জীবনে বাঙালি শিল্পীদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
একসময় সুপরিচিত অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন-এর সঙ্গেও স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন তিনি।
তাই তাঁর মৃত্যু শুধুমাত্র বলিউডের ক্ষতি নয়—সমগ্র ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক অপূরণীয় শূন্যতা।
আরও পড়ুন
শেষবিদায় ধর্মেন্দ্রকে: শ্মশানে হেমার চোখ ছলছল, হাজির বলিউড তারকারা
শেষ ছবি ‘ইক্কিস’, কিন্তু দেখা হল না মুক্তির দিন
ধর্মেন্দ্র অভিনীত শেষ ছবি ‘ইক্কিস’ মুক্তি পেতে চলেছে শিগগিরই।
এই ছবিতে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেলের চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে।
একই ছবিতে অভিনয় করছেন অমিতাভ বচ্চনের নাতি অগস্ত্য নন্দা—একদিকে প্রিয় বন্ধুর পরিবারের নতুন প্রজন্ম, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে এটি হওয়ার কথা ছিল ধর্মেন্দ্রর কাছে এক বিশেষ মুহূর্ত।
কিন্তু মুক্তির কয়েকদিন আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন অভিনেতা।
আরও পড়ুন
প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স ছাড়াই হেমাকে বিয়ে! ধর্মেন্দ্র–ড্রিম গার্লের প্রেমকাহিনি আজও বলিউডে দৃষ্টি
ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে কাটানো শুটিংয়ের প্রতিটি মুহূর্ত আজ স্মৃতির অমূল্য ভান্ডারে জমিয়ে রেখেছেন টোটা রায় চৌধুরী। তাঁর কথাতেই বোঝা যায়—সিনেমার পর্দায় যিনি ছিলেন নায়ক, বাস্তব জীবনেও তিনি ছিলেন ঠিক ততটাই উদার, বিনয়ী আর মানবিক।
আরও পড়ুন
হঠাৎ প্রয়াণে স্তব্ধ চলচ্চিত্রপাড়া, ধর্মেন্দ্রর স্মৃতিতে আবেগ-ভাঙা অর্জুন চক্রবর্তী

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.