দীর্ঘদিন ধরে দিঘা ছিল বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্র পর্যটনকেন্দ্র। কিন্তু গত ছ’মাসে ছবিটা পাল্টে গিয়েছে পুরোপুরি। এখন দিঘার পরিচয় শুধু ‘সৈকত নগরী’ নয়—এটি হয়ে উঠেছে নতুন তীর্থস্থান। আর এই বদলের কেন্দ্রবিন্দু দিঘার নবনির্মিত জগন্নাথ ধাম।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে মাত্র ছয় মাস আগে উদ্বোধন হয়েছিল দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের। পুরীর বিখ্যাত মন্দিরের আদলে নির্মিত এই স্থাপনা নিয়ে শুরু থেকেই আলোচনা ছিল প্রবল; সঙ্গে জড়িয়েছিল বিতর্কও। মন্দিরকে ‘ধাম’ বলা যাবে কি না, প্রসাদ বিতর্ক, এমনকি মামলা—সবই হয়েছে। কিন্তু কোনও বিতর্কই ভক্তদের আস্থায় চিড় ধরাতে পারেনি।
🔱 ছ’মাসে দর্শনার্থী ৯০ লক্ষ ছাড়াল
মন্দির কর্তৃপক্ষের তথ্য আরও চিত্তাকর্ষক। অছি পরিষদের সদস্য রাধারমণ দাস জানান, উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার ভক্ত মন্দিরে এসেছেন। ছয় মাসে এই সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ৯০ লক্ষেরও বেশি—যা দিঘাকে কার্যত নতুন তীর্থস্থান হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
উৎসবের দিনে এই ভিড় আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
💰 আর্থিক দিক থেকেও স্বনির্ভর জগন্নাথ মন্দির
অল্প সময়েই আর্থিক দিক থেকেও সাফল্যের মুখ দেখেছে দিঘার জগন্নাথ ধাম। রাধারমণ দাসের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মন্দিরের দৈনিক গড় আয় এখন প্রায় ৪ লক্ষ টাকা।
এর উৎস—
হুন্ডি থেকে নগদ: প্রায় ১ লক্ষ টাকা
অনুদান ও উপহার: প্রায় ১ লক্ষ টাকা
প্রসাদ ও ভোগ বিক্রি: প্রায় ২ লক্ষ টাকা
এই টানা অর্থপ্রবাহ জগন্নাথ মন্দিরকে এখন আর্থিকভাবে আত্মনির্ভর করে তুলেছে।
🌊 পর্যটন থেকে তীর্থ—দিঘার পরিচয় বদলে যাচ্ছে
সমুদ্রতীরের সৌন্দর্যের টানে মানুষ যেমন আসতেন, তেমনই এখন ধর্মীয় আকর্ষণও দিঘায় বড় ভূমিকা নিচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসা, হোটেল, রেস্তোরাঁ—সব ক্ষেত্রেই এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
দিঘা আজ আর শুধু ছুটির গন্তব্য নয়, বরং বাংলার নতুন তীর্থক্ষেত্র—আর সেই পরিচয়কে দ্রুতই সুদৃঢ় করছে জগন্নাথ ধাম।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.