আমাদের পৃথিবীর মানুষের কাছে ভিন গ্রহের প্রাণী সম্পর্কে নানান মতবাদ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন সেই ভিন গ্রহের প্রাণীরা পৃথিবীর সন্ধান জানে। আবার কারোর মতে তারা আমাদেরই মত অন্য বিশ্বের ধারণা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। কিন্তু তারই মাঝে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে যা আমাদের ভাবতে বাধ্য করে যে পৃথিবীর অস্তিত্ব সম্পর্কে বিশ্বের বাইরেও খবর রয়েছে অনেকের কাছে। আর তাদেরই পৃথিবীর কয়েকজন চাক্ষুষ করেছে।
সেইরকম একটি ঘটনা হলো ১৯৯৪ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর। ওইদিন আফ্রিকার একটি দেশ জিম্বাবোয়ের রুওয়া শহরে ঘটে একটি বিরল ঘটনা৷ রুওয়া শহরের একটি স্কুলের বাইরে উড়ন্ত একটি চাকির দেখা পেয়েছিল ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ৬২ জন পড়ুয়া। এরিয়েল নামক ওই স্কুল পড়ুয়াদের দাবি ছিল তারা এক বা একাধিক উড়ন্ত চাকিকে স্কুলের কাছে একটি মাঠে নামতে দেখেছিল। অনেকে দাবি করেন ঘুটঘুটে কালো অন্ধকারময় আকাশে গোল গোল চাকি দেখা গিয়েছে।
এই ঘটনার দু’দিন আগে দক্ষিণ আফ্রিকার আকাশে উড়ন্ত চাকি দেখতে পাওয়া গিয়েছে। তবে অনেক প্রত্যক্ষদর্শী ওই গোল চাকিগুলিতকে ধুমকেতু বা উল্কা বলে অনুমান করেছেন। তবে এসবের চেয়েও এরিয়েল স্কুলের পড়ুয়াদের মুখ থেকে উঠে আসা কাহিনি যেনো এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করে। রুওয়া একটি ছোটো কৃষিপ্রধান শহর। এটি জিম্বাবোয়ের রাজধানী হারারে থেকে ২২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে।
এখানকার একটি বেসরকারি স্কুল হলো এরিয়েল। এই স্কুলের বেশিরভাগ পড়ুয়া ধনী পরিবারের সন্তান। ওই স্কুলে ঘটে যাওয়া বহির্বিশ্ব থেকে আসা মানুষের কার্যকলাপের ওই ঘটনা। শোনা যায় স্কুলের সকল পড়ুয়া বিষয়টি দেখেনি। তবে অনেকে দাবি করেছেন যে ঘটনাটি সত্য। ১৯৯৪ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা নাগাদ স্কুলের মাঠে ভিন গ্রহীদের দেখা গিয়েছিল। এই ঘটনাটি শিক্ষকদের জানায় পড়ুয়ারা।
কিন্তু কেউই বিশ্বাস করতে চায়নি। এরপর পড়ুয়ারা বাড়ি ফিরে তাদের বাবা মাকে বিষয়টি জানায়। এরপর এক সাংবাদিক ওই স্কুলে পড়ুয়াদের থেকে এই বিষয় সম্পর্কে আরও জানার চেষ্টা করেন। তিনি সকলকে ওই ভিন গ্রহীদের ছবি আঁকতে বলেন। তারা সকলেই একই ছবি এঁকেছিলেন। তার মাস দুয়েক পরে নভেম্বর মাসে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রির অধ্যাপক এবং পুলিৎজ়ার পুরস্কার বিজয়ী লেখক জন ম্যাক আসেন।
তিনি ওই স্কুলের পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের কথায় উঠে আসে যে তারা ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ৬২ জন শিশু স্কুলের সামনে রূপোলী রঙের উড়ন্ত চাকি দেখেছিল। ওই চাকির মধ্যে ছিল এক থেকে চার জন বড় চোখযুক্ত ও কালো পোশাক পরা প্রাণী৷ অনেক খুদে বিষয়টি দেখে ভয়ে পালিয়ে যায়। কেউ কেউ পুরো ঘটনাটি দেখে। ম্যাককে সাক্ষাৎকারে এক পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী বলেন, “আমি মনে করি যে ওই ভিন্গ্রহীরা আসলে আমাদের জানাতে চেয়েছিল যে আমরা বিশ্বের ক্ষতি করছি এবং আমাদের খুব বেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত নয়।”
এর পাশাপাশি ভিন গ্রহীরা ওই পড়ুয়াদের সচেতন করে যে কীভাবে পৃথিবীতে দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে ও দূষণ কী জিনিস। আরেক খুদের কথায়, যত্ন না নিলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। ওই স্কুলের পড়ুয়াদের বিশ্বাস, তারা ভিন গ্রহীদের দেখেছে। এরিয়েল স্কুলে ভিন গ্রহীদের নিয়ে এই ঘটনা উড়ন্ত চাকি সংক্রান্ত গল্পগুলির মধ্যে অন্যতম। তবে যুক্তিবাদীরা মনে করেন, ওই স্কুলের পড়ুয়ারা কোনো বিশেষ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.