আজকাল হাঁটুর ব্যথা শুধু বয়স্কদের মধ্যেই নয়, তুলনামূলক কম বয়সিদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। তবে চল্লিশ পেরোনোর পর মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়। বয়স ষাটের গণ্ডি পেরোলে হাঁটতে-চলতে ব্যথা এতটাই বাড়ে যে দৈনন্দিন কাজকর্মেও অসুবিধা দেখা দেয়।
হাঁটুর ব্যথার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। জন্মগতভাবে হাড়ের গঠনে সমস্যা, কোনও পুরনো চোট, সংক্রমণ, আর্থ্রাইটিস, কার্টিলেজ ক্ষয় বা হাড়ে আঘাত—সবই হাঁটুর যন্ত্রণার কারণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে টিউমারের কারণেও হাঁটুতে ব্যথা দেখা দেয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হরমোনের পরিবর্তন ও ক্যালশিয়ামের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তখন অনেক সময় ওষুধেও কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে না।
এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত কিছু সহজ ব্যায়াম হাঁটুর ব্যথা কমাতে এবং পায়ের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। সবচেয়ে ভালো দিক হল—এই ব্যায়ামগুলি ঘরেই নিরাপদে করা যায়।
হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেচ
একটি চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন। একটি পা সামনে সোজা করে বাড়িয়ে দিন, গোড়ালি মাটিতে থাকবে। পায়ের আঙুল উপরের দিকে তুলে রেখে সামান্য সামনে ঝুঁকুন। পায়ের পিছনে টান অনুভব হলে ২০–৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। দুই পায়েই করুন।
কাফ রেজ়
দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে হাত দিয়ে ভর নিন। ধীরে ধীরে গোড়ালি তুলুন এবং আবার নামান। দিনে ১০ বার করে ২ সেট করলেই যথেষ্ট। এটি পায়ের পেশি মজবুত করে।
অ্যাঙ্কেল রোটেশন
চেয়ারে বা বিছানায় বসে দুই পা সামনে বাড়ান। স্বাভাবিক শ্বাস নিতে নিতে পায়ের পাতা ঘড়ির কাঁটার দিকে ১০ বার ও উল্টো দিকে ১০ বার ঘোরান। এতে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং ব্যথা কমে।
ভদ্রাসন
ম্যাটের উপর বসে দুই পায়ের পাতা একসঙ্গে জোড়া লাগান। পিঠ সোজা রেখে হাঁটু ধীরে ধীরে ওঠানামা করান। এই আসন ঊরু ও কোমরের জড়তা দূর করতে সাহায্য করে।
লেগ লিফট
চিত হয়ে শুয়ে একটি পা ভাঁজ করে রাখুন, অন্য পা সোজা রেখে ধীরে এক ফুট উপরে তুলুন। ৫ সেকেন্ড ধরে রেখে নামান। দুই পায়েই ১০ বার করে করুন।
নিয়মিত এই ব্যায়ামগুলি করলে হাঁটুর জড়তা কমে, পেশি শক্তিশালী হয় এবং ধীরে ধীরে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ব্যথা বেশি হলে বা অন্য কোনও সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.