বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়ার নাম এক গভীর ছাপ রেখে গেছেন। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোরে ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন কঠিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থার সার্বিক জটিলতার মধ্যে ছিল লিভারের সিরোসিস, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, বুকে ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা, এবং বয়সের সঙ্গে যুক্ত নানা জটিলতা — যা দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থাকে দুর্বল করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যু পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল।
রাজনৈতিকভাবে খালেদা জিয়া ছিলেন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দুইবার বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর দীর্ঘ সারা বছরব্যাপী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে ‘বেগমদের লড়াই’ নামে পরিচিত রাজনৈতিক বিরোধে years of fierce rivalry রূপায়িত করেছিলেন, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহু বছর বিভিন্ন আন্দোলন, প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
২০১৮ সালে দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় আদালত ও বন্দিত্ব সম্পর্কিত আইনি জটিলতার মধ্যেও পড়েন। পরে ২০২৪ সালে উচ্চ আদালত তাঁকে খালাস করেন এবং রাজনৈতিকভাবে কিছুটা মুক্তি পান।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ জুড়ে শোক বিরাজ করছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল, দেশীয় নেতৃবৃন্দ ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও তাঁর মৃত্যুতে সমবেদনা জানানো হয়েছে।
তিনি শুধু এক দল বা একজন নেতা নন; বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ক্ষমতার জন্য চলা সংগ্রাম এবং রাজনীতির জটিলতাকে বোঝার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে গেছেন। তাঁর প্রয়াণ ইতিহাসের এক দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি নির্দেশ করে, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেটি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে থাকবে।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন — বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা।