২৩ জানুয়ারি ২০২৬, বসন্ত পঞ্চমীর পবিত্র তিথিতে সারা দেশজুড়ে ধুমধাম করে পালিত হবে সরস্বতীপুজো। পাড়া, বাড়ি, স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাব প্রাঙ্গণে এই দিন বিদ্যার দেবী মা সরস্বতীর আরাধনা করা হয়। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে হলুদ মেখে স্নান করে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার রীতি বহুদিন ধরেই চলে আসছে।
দেবী সরস্বতী হলেন বিদ্যা, জ্ঞান, বুদ্ধি, বাকশক্তি ও সৃজনশীলতার অধিষ্ঠাত্রী দেবী। বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠাভরে তাঁর পুজো করলে শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য, জ্ঞান বৃদ্ধি, শিল্পকলায় দক্ষতা এবং কর্মজীবনে উন্নতির পথ প্রশস্ত হয়। তবে এই শুভ দিনে কিছু কাজ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়। শাস্ত্র ও লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই ভুলগুলি করলে দেবী অসন্তুষ্ট হন এবং জীবনে নানা বাধা আসতে পারে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, সরস্বতীপুজোর দিন কোন চারটি কাজ একেবারেই করা উচিত নয়—
১. কালো ও লাল পোশাক পরা নিষেধ
সরস্বতীপুজোর দিন কালো বা লাল রঙের পোশাক পরা অশুভ বলে মনে করা হয়। দেবী সরস্বতীর প্রিয় রং সাদা ও হলুদ, যা পবিত্রতা ও জ্ঞানের প্রতীক। তাই এই দিনে সাদা বা হলুদ শাড়ি, পাঞ্জাবি বা পোশাক পরাই শ্রেয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, কালো বা লাল রং নেতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করতে পারে।
২. বিদ্যার অসম্মান করা চলবে না
এই দিনটি সম্পূর্ণভাবে বিদ্যার উদ্দেশ্যে নিবেদিত। তাই বই, খাতা, কলম, বাদ্যযন্ত্র বা শিক্ষার কোনও উপকরণে পা দেওয়া, ছুঁড়ে ফেলা বা অবহেলা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এগুলি বিদ্যার প্রতীক, আর এদের অসম্মান মানেই দেবীর অসম্মান।
৩. খারাপ কথা ও নিন্দা থেকে বিরত থাকতে হবে
মা সরস্বতী বাকশক্তির দেবী। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী মানুষের জিহ্বায় বাস করেন। তাই এই দিনে গালিগালাজ, খারাপ কথা বলা, কারও নিন্দা বা কটু মন্তব্য করা উচিত নয়। সংযত ভাষা ও শান্ত আচরণই দেবীর কৃপা লাভের পথ।
৪. দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা নিষেধ
সরস্বতীপুজোর দিন ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে বেলা পর্যন্ত শুয়ে থাকলে ভাগ্যও শুয়ে পড়ে। তাই সূর্যোদয়ের আগেই উঠে স্নান করে পুজোর প্রস্তুতি নেওয়াই শুভ।
সব মিলিয়ে, সরস্বতীপুজো শুধু আচার নয়, বরং শুদ্ধ জীবনচর্চারও প্রতীক। এই নিষিদ্ধ কাজগুলি এড়িয়ে চললে বিদ্যার দেবীর আশীর্বাদে জ্ঞান, সাফল্য ও সৌভাগ্য লাভ করা সম্ভব—এমনটাই বিশ্বাস করেন ভক্তরা।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.