সনাতন ধর্মে মা লক্ষ্মী-কে ধন, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে মানা হয়। বিশ্বাস করা হয়, তাঁর আশীর্বাদে সংসারে আর্থিক স্থিতি বজায় থাকে এবং জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসে। তবে অনেক সময় কঠোর পরিশ্রমের পরও অর্থাভাব কাটতে চায় না, ঋণের চাপ বাড়তেই থাকে। বাস্তুশাস্ত্র মতে, শুক্রবার কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চললে আর্থিক বাধা অনেকটাই কমতে পারে।
ঋণমুক্তির সহজ উপায়
যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ঋণের চাপে ভুগছেন, তাঁদের জন্য শুক্রবারের একটি বিশেষ টোটকার কথা বলা হয়। এদিন একটি নিমের ডাল বা নিম কাঠ বাড়িতে এনে পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর কাঁচের পাত্রে নুন মেশানো জলে সেটি ডুবিয়ে রাখতে হবে। বাস্তুমতে, এই নিয়ম নিয়মিত পালন করলে ধীরে ধীরে আর্থিক চাপ কমতে শুরু করে এবং ঋণ শোধের পথ সহজ হয়।
সম্পত্তি লাভের সম্ভাবনা
অনেকেই বাড়ি, জমি বা গাড়ির মতো স্থাবর সম্পত্তির স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু নানা কারণে তা পূরণ হয় না। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, শুক্রবার মা লক্ষ্মীকে গোলাপি ফুলের মালা অর্পণ করে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করলে শুভ ফল পাওয়া যায়। পাশাপাশি এদিন নারীদের সাদা মিষ্টি দান করাও অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এতে সম্পত্তি লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় বলে বিশ্বাস।

চাকরি ও কর্মজীবনে উন্নতি
চাকরিক্ষেত্রে সমস্যা, পদোন্নতিতে বাধা বা আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভুগলে শুক্রবার অশ্বত্থ গাছের গোড়ায় জল ও মিষ্টি নিবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর গাছটিকে তিনবার প্রদক্ষিণ করে মনের ইচ্ছা প্রকাশ করতে বলা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই অভ্যাস নিয়মিত করলে কর্মজীবনের বাধা দূর হয়ে উন্নতির সুযোগ তৈরি হয়।
ব্যবসায় লাভ বৃদ্ধির টোটকা
ব্যবসায় মন্দা বা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লে দোকান বা অফিসে পদ্ম বা গোলাপের উপর আসীন মা লক্ষ্মীর ছবি বা মূর্তি স্থাপন করা শুভ বলে ধরা হয়। দেবীকে গোলাপের সুগন্ধি নিবেদন করার পর প্রতিদিন কাজে বের হওয়ার আগে সেই সুগন্ধি ব্যবহার করলে ব্যবসায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।
আটকে থাকা টাকা ফেরানোর উপায়
অনেক সময় ধার দেওয়া টাকা দীর্ঘদিন ফেরত পাওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার দরিদ্র মানুষদের মিষ্টি ও বস্ত্র দান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া রাতে চাঁদকে দুধ মেশানো জল অর্পণ করে প্রার্থনা করলে আটকে থাকা অর্থ ফিরে আসার সম্ভাবনা বাড়ে বলে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে।
বাস্তুশাস্ত্রের এই নিয়মগুলি ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক আস্থার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করেন, ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই নিয়ম পালন করলে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.