আধুনিক শহুরে জীবনে ছোট ফ্ল্যাট বা সীমিত জায়গার কারণে অনেকেই দেওয়ালে টাঙানো দেবমূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে নিয়মিত পুজো করেন। সময় ও জায়গার অভাবের কারণে এই পদ্ধতি সহজ হলেও বাস্তুশাস্ত্রের ব্যাখ্যা অনুযায়ী উপাসনার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন বলে মনে করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উপাসনার মূল উদ্দেশ্য শুধু আচার পালন নয়, বরং মনকে একাগ্র ও শান্ত রাখা। সেই কারণে প্রাচীনকাল থেকেই আসন পেতে বসে পুজো করার প্রথা প্রচলিত। বিশ্বাস করা হয়, এই ভঙ্গিতে উপাসনা করলে মনোসংযোগ বৃদ্ধি পায় এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশ আরও গভীর হয়।
বাস্তুশাস্ত্রের ধারণা অনুযায়ী, মাটির উপর আসন পেতে বসলে শরীর ও প্রকৃতির মধ্যে এক ধরনের শক্তির ভারসাম্য তৈরি হয়। এর ফলে মানসিক স্থিরতা বজায় থাকে এবং ধ্যান বা প্রার্থনার সময় মন কম বিচলিত হয়। যদিও এই ধারণা মূলত ঐতিহ্য ও বিশ্বাসভিত্তিক, তবুও বহু মানুষ তা অনুসরণ করে থাকেন।

পুজোর সময় কোন দিকে মুখ করে বসা উচিত, সে বিষয়েও বাস্তুশাস্ত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাধারণভাবে পূর্বমুখী হয়ে উপাসনা করাকে শুভ মনে করা হয়। পূর্ব দিক সূর্যোদয়ের প্রতীক হওয়ায় এটি নতুন শক্তি, আলোক ও ইতিবাচকতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
শুধু বসার নিয়ম নয়, পুজোর সামগ্রী সাজানোর ক্ষেত্রেও কিছু প্রচলিত বিধি রয়েছে। ধূপ, প্রদীপ ও ঘণ্টার মতো উপকরণ ডান পাশে এবং ফুল, ফল, অর্ঘ্য, জল বা শঙ্খ বাম পাশে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে উপাসনার পরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল ও পরিপাটি থাকে বলে মত অনেকের।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন, বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ, অঞ্চল ও পারিবারিক রীতিতে উপাসনার নিয়ম ভিন্ন হতে পারে। তাই বাস্তুশাস্ত্রের এই নির্দেশিকাগুলি মূলত প্রচলিত বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অংশ। সর্বোপরি, আন্তরিক ভক্তি, শ্রদ্ধা ও মনোযোগই উপাসনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে অধিকাংশ আধ্যাত্মিক মতবাদে গুরুত্ব দেওয়া হয়।