সুকুমার রায়ের ‘হযবরল’-এ যেমন দেখা যায় অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প, ঠিক তেমনই বাস্তবে ঘটিয়ে দেখালেন গুজরাটের সুরাটের তিন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া। বাতিল লোহালক্কড় থেকে তৈরি করলেন দেশের প্রথম এআই-চালিত সুপারবাইক ‘গরুড়’। শুধু অভিনব ভাবনাই নয়, প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এই বাইক একেবারে যুগান্তকারী।
ভগবান মহাবীর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র শিবম মৌর্য, গুরপ্রীত অরোরা ও গণেশ পাটিল এই ব্যতিক্রমী প্রকল্পের নেপথ্য কারিগর। তাঁদের লক্ষ্য ছিল—কম খরচে এমন একটি স্মার্ট যান তৈরি করা, যা ভবিষ্যতের রাস্তায় দুর্ঘটনা কমাতে সাহায্য করবে। সেই লক্ষ্যেই তাঁরা ব্যবহার করেছেন বাতিল যন্ত্রাংশ, যার ফলে মোট খরচ দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.৮ লক্ষ টাকা। অথচ ক্ষমতার দিক থেকে এই বাইক অনেক দামি ইলেকট্রিক বাইককেও টেক্কা দিতে পারে।
এই বাইকের ‘মস্তিষ্ক’ হল র্যাস্পবেরি পাই প্রসেসর। এর সাহায্যেই ‘গরুড়’ ভয়েস কমান্ড বুঝতে পারে। চালক বললেই গতি বাড়ানো, কমানো বা থামা—সবই সম্ভব। এমনকি চালক না থাকলেও ব্যস্ত রাস্তায় নিজে থেকেই চলতে পারে এই বাইক।
নিরাপত্তার দিক থেকে রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। বাইকটির চারপাশে থাকা সেন্সর ১২ ফুটের মধ্যে কোনও যানবাহন এলেই গতি কমিয়ে দেয়। আর মাত্র ৩ ফুট দূরত্বে কোনও বাধা থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে যায়। প্রয়োজনে শুধু ভয়েস কমান্ড দিয়েও বাইক থামানো সম্ভব।
এই এআই সুপারবাইকে রয়েছে টাচস্ক্রিন ড্যাশবোর্ড, জিপিএস নেভিগেশন, ফোন কানেক্টিভিটি, মিউজিক প্লেব্যাকের সুবিধা। সামনে ও পিছনে থাকা ক্যামেরার মাধ্যমে সারাক্ষণ লাইভ ভিডিও দেখা যায়, যা ট্র্যাফিকের মধ্যে চলাচলকে আরও নিরাপদ করে তোলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে যেখানে পথ দুর্ঘটনার সংখ্যা ভয়াবহ রকম বেশি, সেখানে ‘গরুড়’-এর মতো এআই-নির্ভর যানবাহন ভবিষ্যতে এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে পারে। তিন তরুণের এই উদ্ভাবন প্রমাণ করে—সঠিক ভাবনা আর প্রযুক্তির মেলবন্ধনে বাতিল জিনিসও হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতের বাহন।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.