গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগের জগতে সোনা আবারও নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছে। বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা হয়ে উঠেছে সবচেয়ে নিরাপদ সম্পদ। এর ফলেই সোনার দামে একের পর এক রেকর্ড বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সোনার দামের অভূতপূর্ব বৃদ্ধি
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে সোনায় বিনিয়োগকারীরা গড়ে ২০.৬ শতাংশ রিটার্ন পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, ২০২৫ সালেই সোনার দাম প্রায় ৭৪.৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা গত দশ বছরে সর্বোচ্চ লাভের রেকর্ড তৈরি করেছে। এই বিপুল রিটার্ন আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে যে দীর্ঘমেয়াদে সোনা একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ মাধ্যম।
বড় অঙ্ক নয়, SIP-ই এখন সেরা উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার দাম যখন সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে যায়, তখন একবারে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে SIP বা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্ক বিনিয়োগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ কৌশল। SIP-এর মাধ্যমে রুপির গড় খরচ (Rupee Cost Averaging) হয়, ফলে দামের ওঠানামার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এই ধরনের বিনিয়োগ শুরু করতে বড় মূলধনের প্রয়োজন নেই। মাত্র ১০০ থেকে ৫০০ টাকা দিয়েই মাসিক বিনিয়োগ শুরু করা যায়।
সেরা ৩টি গোল্ড ফান্ড
সরাসরি সোনা কেনার ঝামেলা এড়িয়ে এখন অনেকেই গোল্ড মিউচুয়াল ফান্ডের দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে বাজারে জনপ্রিয় এবং ভালো পারফরম্যান্স করা তিনটি গোল্ড ফান্ড হলো—
1. SBI Gold Fund – গড় রিটার্ন প্রায় ১৭.২%
2. HDFC Gold ETF – গড় রিটার্ন প্রায় ১৭.১%
3. Nippon India Gold Savings Fund – গড় রিটার্ন প্রায় ১৭.০%
এই ফান্ডগুলি মূলত গোল্ড ETF বা স্বর্ণভিত্তিক সম্পদে বিনিয়োগ করে, ফলে সোনার দামের সঙ্গে সরাসরি লাভের সুযোগ মেলে।
মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে সোনায় বিনিয়োগ কেন লাভজনক
যাঁরা গয়না বা ফিজিক্যাল গোল্ড কিনতে চান না, তাঁদের জন্য গোল্ড মিউচুয়াল ফান্ড আদর্শ বিকল্প। এখানে সংরক্ষণ খরচ নেই, চুরি বা ভাঙার ঝুঁকি নেই এবং খুব সহজেই অনলাইনে কেনাবেচা করা যায়। পাশাপাশি অল্প অল্প করে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের তহবিল তৈরি করা সম্ভব।
উপসংহার
সোনার দাম বাড়লেও বিনিয়োগের সুযোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি। সঠিক পরিকল্পনা ও SIP পদ্ধতির মাধ্যমে মাত্র ১০০ টাকা থেকেই সোনায় বিনিয়োগ শুরু করে ভবিষ্যতে ভালো রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। তাই নিরাপদ ও স্থিতিশীল বিনিয়োগের কথা ভাবলে গোল্ড ফান্ড হতে পারে একটি বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত।