সোনা–রুপোর দামে ধাক্কা, ETF নিয়ে দ্বিধায় বিনিয়োগকারীরা: ২০২৬–২৭ নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সাধারণত যুদ্ধ বা অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা ও রুপোর দাম দ্রুত বাড়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা গেল কিছুটা ভিন্ন ছবি।

বাজারের সাম্প্রতিক হিসেব বলছে, ২৩ মার্চ পর্যন্ত সময়ে সোনা ও রুপোর বাজার থেকে প্রায় ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগমূল্য কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে গোল্ড ও সিলভার এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ETF)-এর উপরেও।

গত প্রায় ২৪ দিনে গোল্ড ETF-এর দাম গড়ে প্রায় ৮% কমেছে

অন্যদিকে সিলভার ETF বিনিয়োগকারীরা প্রায় ১৩% পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়েছেন

এই পরিস্থিতি অনেক বিনিয়োগকারীকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে—এখন কি কম দামে কেনা উচিত, নাকি অপেক্ষা করা ভালো।

ইতিহাসে বিরল ‘ব্ল্যাক উইক’ সোনার বাজারে

বিশ্লেষকদের মতে, গত সপ্তাহে সোনার বাজারে এমন পতন দেখা গেছে যা বহু দশকে খুব কম ঘটেছে।
১৯৮৩ সালের পর থেকে এত বড় ধাক্কা খুব কমই এসেছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগমূল্য কমে যায়।

বিশ্ব ইতিমধ্যেই বহু বড় সংকট দেখেছে—

ইরাক–ইরান যুদ্ধ
২০০৮ সালের আর্থিক মন্দা
কোভিড মহামারি

তবু এত বড় ধাক্কা সোনার বাজারে খুব কম দেখা গেছে। তাই এবারের পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

কেন কমল সোনা ও রুপোর দাম?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে এই পতন ঘটেছে—

১. ডলারের শক্তিশালী অবস্থান
যখন মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়, তখন সাধারণত সোনা ও রুপোর দাম চাপের মধ্যে পড়ে।

২. বন্ড ইল্ড বেড়ে যাওয়া
ইউএস ট্রেজারি বন্ডের রিটার্ন বাড়ায় অনেক বিনিয়োগকারী নিরাপদ ধাতু থেকে সরে অন্য বিনিয়োগে ঝুঁকেছেন।

৩. সুদের হার কমেনি
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ এবং ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডসহ কয়েকটি বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমায়নি। এর ফলে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

৪. যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা
যুদ্ধের আশঙ্কা থাকলেও সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা বাজারে দ্রুত ওঠানামা তৈরি করেছে।

ETF বিনিয়োগকারীদের দ্বিধা

বর্তমানে অনেক বিনিয়োগকারী ভাবছেন—

এখন কম দামে ETF কিনে অ্যাভারেজ কমানো উচিত?
নাকি বাজার স্থিতিশীল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভালো?

কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ফলে বাজারে আবার কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে দাম বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে পরিস্থিতি আবার খারাপ হলে নতুন করে পতনও হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে সোনা–রুপোর গুরুত্ব

বাজারে ওঠানামা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এই দুই ধাতুকে অনেক বিনিয়োগকারী নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করেন।
গত তিন বছরের হিসেব অনুযায়ী—

গোল্ড ETF রিটার্ন প্রায় ৩৩%
সিলভার ETF রিটার্ন প্রায় ৪৮%

এই রিটার্ন অনেক ব্লু-চিপ শেয়ারের থেকেও বেশি।

২০২৬–২৭ অর্থবছরের সম্ভাবনা

নতুন অর্থবছর শুরু হতে চলেছে। বর্তমানে জানুয়ারির তুলনায় সোনা ও রুপোর দাম কিছুটা নিচে রয়েছে। এই অবস্থায় অনেক বিশেষজ্ঞ সোনাকেই তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন।

এর কারণ—

সোনার দাম মূলত বিনিয়োগের চাহিদার উপর নির্ভর করে
কিন্তু রুপোর ক্ষেত্রে শিল্পে ব্যবহারের বড় ভূমিকা রয়েছে
তাই রুপোর বাজার তুলনামূলক বেশি অস্থির হতে পারে

ভারতের অর্থনীতির জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি

কিছু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন, যদি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে—

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার মান দুর্বল হতে পারে
এমনকি ১১০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে

এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে অনেক বিশেষজ্ঞ পোর্টফোলিও রিব্যালান্স করার সময় সোনা ও রুপো যুক্ত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।

সারসংক্ষেপ:
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারে অনিশ্চয়তা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে সোনা এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বল্পমেয়াদে ওঠানামা থাকলেও কৌশলগতভাবে বিনিয়োগ করলে সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক