হিমালয়ের কোলঘেঁষা নেপালে আবারও ভাঙল স্বাভাবিকতার তাল। কয়েক মাস আগেই যে তরুণ-প্রজন্মের ‘জেন-জি’ বিক্ষোভে থরথর করে কেঁপে উঠেছিল দেশ, সেই ক্ষত এখনও শুকিয়ে ওঠেনি। দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের তালিকায় শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের পর যে দেশটির নাম জুড়েছিল—সেই নেপালেই আবারও যুব আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
নতুন সরকার, নতুন প্রধানমন্ত্রী—সবকিছুই অন্তর্বর্তী হলেও পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছিল। কিন্তু বুধবার থেকেই ফের চড়তে শুরু করে উত্তেজনার পারদ। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, নেপাল-ভারত সীমান্ত লাগোয়া বারা জেলায় রাস্তায় নেমে পড়েন বহু তরুণ-তরুণী। তাদের দাবি—সরকার পরিবর্তন।
গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থেকে তীব্র বিক্ষোভ
বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি, তারা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি শর্মার সমর্থক এবং সিপিএন-ইউএমএল কর্মী। বুধবারের মিছিলে দলের দুই পক্ষের মধ্যে বচসা থেকে শুরু হয় উত্তেজনা। সেই সংঘর্ষ কয়েক মিনিটের মধ্যেই চূড়ান্ত রূপ নেয়। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব পরিণত হয় ব্যাপক বিক্ষোভে। মাঝেমধ্যেই শোনা যায় সরকারের পদত্যাগের স্লোগান।
পুলিশ-বিক্ষোভকারীর মুখোমুখি সংঘর্ষ
বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় হাতাহাতি শুরু হয়। বিক্ষোভের জেরে ইতিমধ্যেই দু’জন যুবককে আটক করেছে নেপাল পুলিশ। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যেতে পারে বলে দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত বারা জেলায় কার্ফু জারি করেন জেলা প্রশাসক।
প্রধানমন্ত্রীর শান্তির বার্তা
নেপালের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করেন, কোনও রাজনৈতিক উস্কানিতে পা দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।
প্রধানমন্ত্রী দফতর এক বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়—
“স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও নিরাপত্তাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
আরও পড়ুন
এটিই ভারতের সবথেকে ধনী জেলা, বাসিন্দাদের মাথাপিছু আয় ১১. ৪৬ লাখ!
কোথায় দাঁড়িয়ে নেপাল এখন?
পরিস্থিতি এখনও অগ্নিগর্ভ। যুবসমাজের ক্ষোভ, দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে নেপাল আবারও এক অশান্ত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। প্রশাসনের কড়া নজরে বারা জেলা, আর অপেক্ষায় গোটা দক্ষিণ এশিয়া—নেপাল কি ফের নতুন অস্থিরতার পথে?

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.