রান্নাঘরের অচেনা বিষ: রোজের ব্যবহারের জিনিসেই বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট বলছে, হৃদরোগের পরেই বিশ্বে মৃত্যুর দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ ক্যানসার। প্রতি বছরই এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস, শরীরচর্চার অভাব ও দূষণের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা এখন আরও একটি ভয়ঙ্কর দিকের কথা বলছেন—আমাদের ঘরের মধ্যেই, বিশেষ করে রান্নাঘরে লুকিয়ে রয়েছে ক্যানসারের ‘নীরব বিষ’।

অনেক সময় স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরেও শরীর ভালো থাকে না। কারণ, সেই খাবার তৈরি বা সংরক্ষণের সময় যে সব বাসনপত্র ও সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলির মধ্যেই লুকিয়ে আছে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও মাইক্রোপ্লাস্টিক। দীর্ঘদিন এই সব উপাদান শরীরে জমতে জমতে ক্যানসারের মতো মারণ রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ননস্টিক বাসন
দাগ পড়া বা চিড় ধরা ননস্টিক বাসন ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এমন বাসনে রান্না করলে প্রতিবার খাবারের সঙ্গে গড়ে প্রায় ১০ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এই ক্ষুদ্র কণা শরীরে জমে গিয়ে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটাতে পারে, যা ভবিষ্যতে ক্যানসারের আশঙ্কা বাড়ায়। তাই পুরনো বা ক্ষতিগ্রস্ত ননস্টিক বাসন দ্রুত বদলানো জরুরি।

সুগন্ধি মোমবাতি
অন্দরসজ্জার জন্য ব্যবহৃত সুগন্ধি মোমবাতি অনেক ক্ষেত্রেই কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি হয়। এতে থাকা থ্যালেট শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, থাইরয়েড ও অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির উপর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে হাঁপানি, প্রজনন সমস্যা এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

প্লাস্টিকের বাসন ও জলের বোতল
গরম খাবার প্লাস্টিকের টিফিন বা বোতলে রাখলে সেখান থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। এই রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করে হরমোনের উপর প্রভাব ফেলে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।

প্লাস্টিক চপিং বোর্ড
ছুরির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত প্লাস্টিক চপিং বোর্ড থেকে সরাসরি মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। এই মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে জমে গিয়ে নানা জটিল রোগের জন্ম দিতে পারে।

অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল
দীর্ঘক্ষণ খাবার মুড়ে রাখার জন্য অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ব্যবহার করাও ঝুঁকিপূর্ণ। এতে থাকা পলিফ্লুরোঅ্যালকার জাতীয় রাসায়নিক খাবারের মাধ্যমে শরীরে ঢুকে লিভারের উপর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করে, যা পরবর্তীতে লিভার ক্যানসারের কারণ হতে পারে।

রিফাইন্ড তেল
উচ্চ তাপে রিফাইন্ড তেল ব্যবহার করলে অ্যালডিহাইড নামক বিষাক্ত যৌগ তৈরি হয়। অতিরিক্ত ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড ও শোধন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত রাসায়নিক শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কীভাবে রান্না করছেন এবং কোন জিনিস ব্যবহার করছেন—সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। সচেতন হলেই রান্নাঘরের এই নীরব বিপদ থেকে নিজেকে ও পরিবারকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক