দেশ-বিদেশ মিলিয়ে ইদানীং বেড়ে চলেছে হার্টের সমস্যা। অল্প বয়সেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা এখন আর নতুন কিছু নয়। পাশাপাশি বেড়েছে লিভারের রোগ, এমনকি অ্যালঝাইমার্সের মতো জটিল স্নায়ুর রোগও। আধুনিক জীবনযাপন এবং দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার অভ্যাস যে এ সমস্যাগুলির অন্যতম বড় কারণ, তা একাধিক গবেষণায় সামনে এসেছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যের সুরক্ষার সহজ উপায় জানালেন দেশের খ্যাতনামা কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ দেবী প্রসাদ শেট্টি।
তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানান—এই রোগগুলির ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন অন্তত ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার পা হাঁটা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, ব্যয়বহুল ও পরিশ্রমসাধ্য ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই; স্মার্ট ওয়াচ পরে প্রতিদিনের পদক্ষেপ গুনলেই যথেষ্ট।
কেন ৮-১০ হাজার পা হাঁটা জরুরি?
ডাঃ শেট্টির বক্তব্য, ‘‘অধিকাংশ মানুষই প্রতিদিন ৩ হাজার পা–র বেশি হাঁটেন না। কিন্তু গবেষণায় দেখা গিয়েছে—যাঁরা রোজ ১০ হাজার পা হাঁটেন, তাঁদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক, লিভারের জটিলতা ও অ্যালঝাইমার্সের মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কম।’’ তিনি উল্লেখ করেন যে জামা (JAMA)-সহ আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত সমীক্ষাগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের চলাফেরার অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করে এই সংযোগ পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পদচারণা রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমিয়ে হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতাও উন্নত করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে জীবনযাত্রা–সংক্রান্ত একাধিক রোগের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পায়।
কাজের ফাঁকে কীভাবে হাঁটবেন?
ডাঃ শেট্টি জানান, ‘‘আজকালকার দিনে কাজ করা মানেই বসে থাকা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষ ল্যাপটপে কাজ করেন। এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।’’ তাই তিনি পরামর্শ দেন—
প্রতি ১ ঘণ্টা অন্তর চেয়ার থেকে উঠে ৫ মিনিট হাঁটতে হবে।
ফোনে কথা বলার সময় ইয়ারফোন ব্যবহার করে হাঁটতে হাঁটতেই কথোপকথন চালিয়ে যাওয়া উচিত।
সকাল বা সন্ধ্যা, নির্দিষ্ট সময় ধরে হাঁটার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই—দিনে যতবার সময় পাওয়া যায়, ভাগ করে হাঁটলেই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব।
স্মার্ট ওয়াচ কতটা প্রয়োজন?
স্মার্ট ওয়াচ বাধ্যতামূলক নয়, তবে ডাঃ শেট্টির মতে এটি হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে। পা গণনা, হার্ট রেট ট্র্যাকিং, স্টেপ গোল পূরণের নোটিফিকেশন—সব মিলিয়ে এটি ব্যবহার করলে দৈনিক পদক্ষেপের হিসাব রাখা সহজ হয় এবং মানুষ নিজেদের স্বাস্থ্যের দিকে আরও সচেতন থাকে।
ছোট অভ্যাসে বড় সুরক্ষা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—ব্যয়বহুল ও পরিশ্রমী ওয়ার্কআউট না করেও নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। ব্যস্ত জীবনেও যদি কেউ দিনের মধ্যে ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটার সময় না পান, তাহলে ছোট ছোট টুকরো করে দিনে ১০–১৫ বার ৫ মিনিট করে হাঁটা হলেও মোটের উপর একই উপকার মেলে।
বর্তমান জীবনযাত্রার চাপ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ করার ফলে হার্ট, লিভার এবং স্নায়ুর রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ডাঃ শেট্টির সহজ পরামর্শ—“প্রতিদিন হাঁটুন, যতটা পারেন হাঁটুন। এতে শরীর বাঁচবে, মনও বাঁচবে।”
FAQ
1. প্রশ্ন: ইদানীং কোন কোন রোগ বাড়ছে?
উত্তর: হার্টের সমস্যা, লিভারের রোগ ও অ্যালঝাইমার্সসহ স্নায়ুর রোগ বাড়ছে।
2. প্রশ্ন: এসব রোগের কারণ কী?
উত্তর: আধুনিক বসে থাকার জীবনযাপন, কম চলাফেরা ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস।
3. প্রশ্ন: ডাঃ দেবী প্রসাদ শেট্টি কী পরামর্শ দিয়েছেন?
উত্তর: প্রতিদিন ৮–১০ হাজার পা হাঁটতে বলেছেন।
4. প্রশ্ন: প্রতিদিন ৮–১০ হাজার পা হাঁটা কেন জরুরি?
উত্তর: এতে হার্ট অ্যাটাক, লিভারের সমস্যা ও অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি কমে।
5. প্রশ্ন: শেট্টির মতে সেরা ব্যায়াম কী?
উত্তর: নিয়মিত হাঁটা।
6. প্রশ্ন: হাঁটার জন্য স্মার্ট ওয়াচ কি দরকার?
উত্তর: বাধ্যতামূলক নয়, তবে পদক্ষেপ গুনতে সাহায্য করে।
7. প্রশ্ন: দিনে কত মানুষ গড়ে হাঁটেন?
উত্তর: প্রায় সবাই ৩,০০০ পা–র মতো হাঁটেন।
8. প্রশ্ন: ৩,০০০ পা কি যথেষ্ট?
উত্তর: না, এটি স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
9. প্রশ্ন: কোন জার্নালের গবেষণা উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: আমেরিকান মেডিক্যাল জার্নাল ‘জামা’ (JAMA)।
10. প্রশ্ন: তাঁদের গবেষণায় কী বলা হয়েছে?
উত্তর: যারা প্রতিদিন প্রায় ১০,০০০ পা হাঁটেন তাঁদের রোগের ঝুঁকি কম।
11. প্রশ্ন: হাঁটা কি হার্ট সুস্থ রাখে?
উত্তর: হ্যাঁ, রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে হার্ট শক্তিশালী করে।
12. প্রশ্ন: হাঁটা লিভার কীভাবে সুস্থ রাখে?
উত্তর: ফ্যাট কমায়, ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায়, ফলে লিভার সুস্থ থাকে।
13. প্রশ্ন: হাঁটা কি অ্যালঝাইমার্স রোধে সাহায্য করে?
উত্তর: হ্যাঁ, মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়ায় এবং কোষ সক্রিয় রাখে।
14. প্রশ্ন: হাঁটার সঠিক সময় কখন?
উত্তর: সকাল বা সন্ধ্যা নির্দিষ্ট নয় — যে সময়ে সুযোগ পাওয়া যায়।
15. প্রশ্ন: অফিসে বসে কাজ করেন — কী করবেন?
উত্তর: প্রতি ১ ঘণ্টা অন্তর ৫ মিনিট হাঁটুন।
16. প্রশ্ন: ফোনে কথা বলার সময় কীভাবে হাঁটবেন?
উত্তর: ইয়ারফোন ব্যবহার করে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলুন।
17. প্রশ্ন: হাঁটার গতি কেমন হওয়া উচিত?
উত্তর: স্বাভাবিক থেকে একটু দ্রুত।
18. প্রশ্ন: ১০ হাজার পা হাঁটতে কত সময় লাগে?
উত্তর: সাধারণত ৭০–৯০ মিনিট।
19. প্রশ্ন: দিনে ভাগ করে হাঁটা যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, একাধিক সেশনে হাঁটা পুরোপুরি ঠিক।
20. прশ্ন: হাঁটা কি সব বয়সের জন্য উপযুক্ত?
উত্তর: হাঁটা যেকোনো বয়সের মানুষ করতে পারেন।
21. প্রশ্ন: মোটা মানুষ হলে কি বেশি উপকার?
উত্তর: হাঁটা ওজন কমায় ও মেটাবলিজম বাড়ায়।
22. প্রশ্ন: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য হাঁটা কেন জরুরি?
উত্তর: ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
23. প্রশ্ন: হাঁটা কি রক্তচাপ কমায়?
উত্তর: হ্যাঁ, নিয়মিত হাঁটলে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ থাকে।
24. প্রশ্ন: হাঁটার জন্য জুতোর প্রয়োজনীয়তা কী?
উত্তর: আরামদায়ক জুতো ব্যবহার করলে হাঁটা সহজ হয়।
25. প্রশ্ন: স্মার্ট ওয়াচের সুবিধা কী?
উত্তর: স্টেপ কাউন্টার, হার্ট রেট মনিটর, অ্যাক্টিভিটি ট্র্যাকিং।
26. প্রশ্ন: স্মার্ট ওয়াচ ছাড়া কীভাবে স্টেপ গোনা যাবে?
উত্তর: মোবাইলের স্টেপ কাউন্ট অ্যাপ ব্যবহার করা যায়।
27. প্রশ্ন: বেশি হাঁটলে কি ক্ষতি হতে পারে?
উত্তর: অত্যধিক হাঁটা বা আকস্মিক অতিরিক্ত চাপ ক্ষতিকর হতে পারে।
28. প্রশ্ন: হাঁটার সঙ্গে আর কী অভ্যাস জরুরি?
উত্তর: পর্যাপ্ত পানি পান ও সুষম খাবার।
29. প্রশ্ন: কবে হাঁটা শুরু করা ভালো?
উত্তর: ঘুম থেকে ওঠার পর বা কাজের ফাঁকেও করা যায়।
30. প্রশ্ন: স্ট্রেস কমাতে হাঁটা কি কার্যকর?
উত্তর: হ্যাঁ, হাঁটা মানসিক চাপ কমায়।
31. প্রশ্ন: ঘুমের উন্নতি হয় কি?
উত্তর: হাঁটা ঘুমের মান ভালো করে।
32. প্রশ্ন: ওজন কমাতে প্রতিদিন কত পা হাঁটা দরকার?
উত্তর: কমপক্ষে ৮–১০ হাজার পা।
33. প্রশ্ন: বয়স্কদের জন্য কত পা হাঁটা উপযুক্ত?
উত্তর: ৫–৮ হাজার পা যথেষ্ট।
34. প্রশ্ন: হাঁটতে কি বিশেষ ডায়েট দরকার?
উত্তর: না, তবে সুষম খাদ্য উপকারী।
35. প্রশ্ন: হাঁটা কি জিমের বিকল্প?
উত্তর: হালকা ব্যায়ামের বিকল্প হতে পারে।
36. প্রশ্ন: হাঁটার সময় পানি খাওয়া যাবে?
উত্তর: অবশ্যই, তবে ছোট ছোট চুমুকে।
37. প্রশ্ন: হাঁটার সময় মোবাইল ব্যবহার করা কি ঠিক?
উত্তর: কথা বলা ঠিক আছে, কিন্তু স্ক্রিন দেখা ঠিক নয়।
38. প্রশ্ন: সন্ধ্যায় হাঁটলে কি সমান উপকার?
উত্তর: হ্যাঁ, সময় কোনো বিষয় নয়।
39. প্রশ্ন: হাঁটার ফলে কি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে?
উত্তর: হ্যাঁ, ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়।
40. প্রশ্ন: হাঁটার অভ্যাস গড়তে কতদিন লাগে?
উত্তর: সাধারণত ২১–৩০ দিন।
41. প্রশ্ন: প্রতিদিন ৮–১০ হাজার পা কি সবার জন্য একই?
উত্তর: সাধারণ মানুষের জন্য গড় নির্দেশনা।
42. প্রশ্ন: হাঁটা কি শরীর ডিটক্স করে?
উত্তর: মেটাবলিজম বাড়িয়ে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে।
43. প্রশ্ন: বৃষ্টি হলে কীভাবে হাঁটবেন?
উত্তর: ঘরের ভিতর বা ট্রেডমিলে হাঁটা যায়।
44. প্রশ্ন: হাঁটার আগে ও পরে স্ট্রেচিং দরকার?
উত্তর: হ্যাঁ, স্বল্প স্ট্রেচিং উপকারী।
45. প্রশ্ন: দ্রুত হাঁটা নাকি ধীরে হাঁটা ভালো?
উত্তর: মাঝারি থেকে দ্রুত সেরা।
46. প্রশ্ন: কি সময় ধরে একটানা হাঁটা ভালো?
উত্তর: ৩০ মিনিট বা দিনে টুকরো করে ১০–১৫ মিনিটও চলবে।
47. প্রশ্ন: হাঁটা কি শরীরের এনার্জি বাড়ায়?
উত্তর: হ্যাঁ, রক্তসঞ্চালন বাড়ার ফলে শরীর চনমনে থাকে।
48. प्रশ্ন: হাঁটার ফলে কি মানসিক সুস্থতা বাড়ে?
উত্তর: হাঁটা সেরোটোনিন বাড়ায়, মন ভালো রাখে।
49. প্রশ্ন: হাঁটা কি সকল রোগ দূর করতে পারে?
উত্তর: না, তবে ঝুঁকি অনেকটা কমায়।
50. প্রশ্ন: ডাঃ শেট্টির মূল বার্তা কী?
উত্তর: “প্রতিদিন হাঁটুন—এটাই সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর ব্যায়াম।”
#HealthTips #WalkingBenefits #HeartCare