দিঘার পরিচিতি এতদিন ছিল সমুদ্রসৈকতের জন্য। কিন্তু মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সেই পরিচিতি বদলে গেছে। সমুদ্রপাড়ের এই শহর এখন পরিণত হয়েছে এক নতুন তীর্থস্থানে—দিঘার জগন্নাথ ধাম। উদ্বোধনের পর থেকেই ভক্তদের ঢল নেমেছে মন্দির প্রাঙ্গণে, আর সেই সংখ্যা এখন নাকি এক কোটির কাছাকাছি—এমনটাই দাবি করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্দিরের অছি পরিষদের সদস্য ও ইসকন কলকাতার ভাইস-প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস জানিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ হাজার ভক্ত মন্দিরে আসেন। এই বিপুল দর্শনার্থীর ভিড়ই দিঘাকে আর পাঁচটা পর্যটনকেন্দ্রের থেকে আলাদা করে দিচ্ছে।
আয়ের উৎস কোথায়, কত আসে?
মন্দিরের আর্থিক কাঠামোও প্রথম কয়েক মাসেই চোখে পড়ার মতো শক্তিশালী হয়েছে। অছি পরিষদের সদস্যদের মতে—
হুন্ডি থেকে আসে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ টাকা
আরও ১ লাখ টাকা আসে দান ও উপহার থেকে
ভোগের প্রসাদ ও অন্যান্য প্রসাদ বিক্রি থেকে আসে প্রায় ২ লাখ টাকা
সব মিলিয়ে দৈনিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ টাকা। মাত্র কয়েক মাসেই যে কোনও নতুন ধর্মীয় স্থানের জন্য এই আয় অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।
মন্দিরের স্থাপত্য ও নির্মাণব্যয়
দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নির্মাণঘটনা শুরু হয় ২০১৮ সালের ঘোষণার মাধ্যমে। ২০২২ সালে শুরু হয় বাস্তব কাজ।
২০ একর জমি দেয় দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদ
হিডকো পায় নির্মাণের দায়িত্ব
মোট ব্যয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা
মন্দিরের স্থাপত্যে মিলেছে কলিঙ্গ ও নাগর শৈলীর ছাপ। রাজস্থানের বাঁশি পাহাড়ের বেলেপাথরের কারুকাজে শোভিত এই মন্দিরের মেঝে সাজানো হয়েছে ভিয়েতনামি মার্বেল দিয়ে, যা এর সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব উভয়কেই বাড়িয়েছে।
প্রধান দেবতা হিসেবে এখানে পূজিত হন জগন্নাথ, আর তাঁর সঙ্গে বিরাজ করছেন বলরাম ও সুভদ্রা—ওড়িশার ঐতিহ্যের প্রতিফলনও স্পষ্ট।
উদ্বোধনের পর থেকেই জনপ্রিয়তার জোয়ার
২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল, অক্ষয়তৃতীয়া তিথিতে মন্দিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। সেদিন থেকেই দিঘার পরিচয়ে যুক্ত হয় নতুন উপাধি—জগন্নাথ ধাম। আর সেই দিন থেকেই পর্যটক ও ভক্তদের প্রবাহ যেন থামছেই না।
মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি মতে, উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিদিনই ভক্তের ভিড় বেড়েছে। কয়েক মাসের মধ্যেই ভক্তসংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে এক কোটির দোরগোড়ায়—যা বাংলায় এই প্রথম কোনও নতুন মন্দিরকে এত দ্রুত জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দিল।
দিঘার অর্থনীতিতে বড় প্রভাব
আগে দিঘা মূলত সপ্তাহান্তে পর্যটকদের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। কিন্তু এখন বছরভর ভক্তদের যাতায়াত স্থানীয় ব্যবসায়িক পরিবেশকে বদলে দিয়েছে।
হোটেল
রেস্তোরাঁ
স্থানীয় বাজার
পরিবহন ব্যবস্থা
সব ক্ষেত্রেই আয় বাড়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই কয়েক মাসেই তাঁদের আয়ে চোখে পড়ার মতো উত্থান ঘটেছে।
পর্যটন + তীর্থ = দিঘার নতুন পরিচয়
দিঘার জগন্নাথ মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং দিঘার ভবিষ্যৎ অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠছে। সমুদ্রসৈকত, পর্যটন, আধুনিক শহর-পরিকাঠামো আর এখন নতুন তীর্থস্থান—সব মিলিয়ে দিঘা হয়ে উঠছে বাংলার অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র।
মাত্র ছয় মাসেই দিঘার জগন্নাথ ধাম প্রমাণ করে দিয়েছে—বিশ্বাস, ঐতিহ্য আর আধুনিক স্থাপত্য মিললে একটি অঞ্চল কীভাবে রাতারাতি বদলে যেতে পারে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.