কলিযুগে সমাজ ও মানুষের জীবনে ক্রমশ গভীর হচ্ছে অন্ধকার। লোভ, স্বার্থপরতা ও ভোগের প্রবণতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মানুষ ধীরে ধীরে হারাচ্ছে বিশ্বাস, ভালোবাসা ও সম্পর্কের মূল্যবোধ। বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্কেও তৈরি হচ্ছে দূরত্ব, ভাই-বোনের বন্ধন আর আগের মতো অটুট নেই। এই প্রেক্ষিতেই এক ভক্তের প্রশ্ন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিলেন আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজ।
ভক্তের প্রশ্ন ছিল—কলিযুগ কি সত্যিই এতটাই ভয়াবহ হবে যে প্রিয়জনদের উপর বিশ্বাস রাখাও কঠিন হয়ে পড়বে? এর উত্তরে প্রেমানন্দ মহারাজ জানান, কলিযুগের প্রভাব ইতিমধ্যেই সমাজে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। আজ যে ঘটনাগুলি মাঝেমধ্যে সামনে আসছে, ভবিষ্যতে সেগুলিই হয়ে উঠবে নিত্যদিনের বাস্তবতা। সম্পর্কের বিশ্বাসভঙ্গ, নৈতিক অবক্ষয়, এমনকি নিজের রক্তের মানুষের হাতেই নির্যাতনের মতো ঘটনা—সবই কলিযুগের লক্ষণ।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে সম্পর্কের মধ্যে পবিত্রতা ও ভেদরেখা লোপ পাবে। লোভ ও স্বার্থপরতা মানুষের বিবেককে এমনভাবে গ্রাস করবে যে বোন ও কন্যার মধ্যেও পার্থক্য থাকবে না। মানুষ কেবল নিজের লাভ ও সুখের দিকেই মনোযোগী হবে, সমাজ ও সম্পর্কের দায়িত্ব ভুলে যাবে।
শুধু মানুষ নয়, প্রকৃতিও যে এই পরিবর্তনের প্রভাব থেকে মুক্ত নয়, সেটিও তুলে ধরেন প্রেমানন্দ মহারাজ। তাঁর কথায়, একসময়ের পবিত্র নদীগুলি আজ দূষণে ভরে উঠেছে। বৃন্দাবনের মতো তীর্থস্থানেও তেষ্টা মেটাতে বোতলের জল কিনতে হয়। অমৃতসম গঙ্গাও আজ তার প্রাচীন বিশুদ্ধতা হারাচ্ছে—এ সবই কলিযুগের গভীর প্রভাবের প্রতিচ্ছবি।
আরও পড়ুন:শীতের আলস্য কাটাতে প্রেমানন্দ মহারাজের উপদেশ: ব্রহ্মমুহূর্তে জাগরণ ও নামজপের শক্তি
তবে এই অন্ধকার সময়েও মুক্তির পথ যে একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি, সেই আশার কথাই শোনান প্রেমানন্দ মহারাজ। তাঁর মতে, কলিযুগে একমাত্র রক্ষা কবচ হল ঈশ্বরের নাম জপ। নাম স্মরণ করলে মন শান্ত হয়, আত্মা শক্তিশালী হয় এবং মানুষের ভিতরে নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত থাকে।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, জপ ও ধ্যান কেবল ব্যক্তিগত শান্তির জন্য নয়, সমাজ ও পরিবারের প্রতি আমাদের কর্তব্য পালনের শক্তিও দেয়। ঈশ্বরকে স্মরণ করাই আজকের দিনে সবচেয়ে বড় অস্ত্র, যা কলিযুগের পাপ, লোভ ও অন্ধকার থেকে আমাদের সুরক্ষিত রেখে একটি আলোকিত পথের দিশা দেখাতে পারে।
প্রেমানন্দ মহারাজের এই বাণী তাই কলিযুগের অস্থির সময়ে মানুষের কাছে এক গভীর আধ্যাত্মিক পথনির্দেশ, যেখানে বিশ্বাস, নৈতিকতা ও মানবিকতা টিকে থাকার আশ্বাস খুঁজে পাওয়া যায়।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.