হাওড়া–বর্ধমান মেন লাইনের সঙ্গে কর্ড লাইনের সরাসরি সংযোগ—এই বহুদিনের দাবি এ বার বাস্তবের পথে হাঁটতে চলেছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই গুরুত্বপূর্ণ শাখাকে যুক্ত করার জন্য পরিকল্পনা ও প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে রেল বোর্ড। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বর্ধমান, হুগলি ও বাঁকুড়া জেলার লক্ষ লক্ষ যাত্রীর যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনই উপকৃত হবেন কৃষকরাও।
বর্তমানে হাওড়া–বর্ধমান মেন লাইনের সঙ্গে কর্ড লাইনের কোনও সরাসরি যোগাযোগ নেই। ফলে বর্ধমান বা বাঁকুড়া থেকে হুগলির তারকেশ্বর কিংবা আশপাশের এলাকায় যেতে হলে যাত্রীদের দীর্ঘ ঘুরপথে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় যেমন বেশি লাগে, তেমনই পরিবহণ খরচও বাড়ে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই ভোগাচ্ছে কৃষকদের।
যদিও গত বছর হাওড়া–বর্ধমান কর্ড শাখার মশাগ্রাম স্টেশনের সঙ্গে বাঁকুড়া দামোদর রিভার রেল (বিডিআর) লাইনের সংযুক্তিকরণ সম্পূর্ণ হয়েছে, তবুও মেন লাইনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হয়নি।
রেলের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাওড়া–বর্ধমান মেন লাইনের রসুলপুর স্টেশন থেকে কর্ড শাখার পাল্লা রোড পর্যন্ত প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে মশাগ্রাম এলাকায় কর্ড শাখা ও বাঁকুড়া লাইনের ক্রসিংয়ের জন্য একটি আধুনিক ‘রেল ওভার ব্রিজ’ তৈরি করার প্রস্তাব রয়েছে। বালি স্টেশনের আদলে এখানে একই স্টেশনে উপরে ও নীচে দুটি প্ল্যাটফর্ম থাকবে।
এই নতুন ব্যবস্থাপনায় বাঁকুড়া–মশাগ্রাম লাইনের মাঠনসিপুর স্টেশনকে ‘হল্ট স্টেশন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি মাঠনসিপুর থেকে হুগলির জঙ্গলপাড়া পর্যন্ত একেবারে নতুন রেললাইন বসানোরও পরিকল্পনা রয়েছে, যা এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারে।
এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রেল বোর্ড ইতিমধ্যেই মেমারির রসুলপুর থেকে পাল্লা রোড–মশাগ্রাম–মাঠনসিপুর হয়ে জঙ্গলপাড়া পর্যন্ত মোট ৭৮ কিলোমিটার রেলপথের সমীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, “নতুন রেলপথের প্রস্তাব এসেছে। চূড়ান্ত সমীক্ষা করে তা খতিয়ে দেখা হবে।”
সব মিলিয়ে, এই প্রকল্প সফল হলে শুধু যাত্রী পরিষেবাই নয়, শিল্প ও কৃষিভিত্তিক পরিবহণেও নতুন দিগন্ত খুলবে বলে আশাবাদী স্থানীয় মানুষ।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.