শিশু ও কিশোরদের ক্রমবর্ধমান অনলাইন আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের মতো দেশ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একই পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইংল্যান্ড। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে ভারতও—এমনই ইঙ্গিত মিলল সংসদে পেশ হওয়া এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা-প্রতিবেদন থেকে।
বৃহস্পতিবার সংসদে সরকারের তরফে জানানো হয়, শিশুদের অনলাইন আসক্তি কমাতে অনলাইন ক্লাসের পরিমাণ হ্রাস করা প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, অনলাইন ক্লাস করার ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে কাটানোর ফলে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে, তা নিয়েই মূলত উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, বিদ্যালয়গুলিকে শুধু পঠনপাঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে শিশুদের ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলার শিক্ষা দিতে হবে। অনলাইন দুনিয়ার ভাল-মন্দ দিক, ঝুঁকি ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য স্কুলগুলিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে বিকল্প ও সহজতর সামগ্রী ব্যবহারেরও সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে ডিজিটাল নির্ভরতা কমে।
শিশুদের জন্য অনলাইন জুয়া, অনুপোযুক্ত বিজ্ঞাপন ও ক্ষতিকর কনটেন্টের বিষয়টিকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। সাইবার নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট স্ক্রিন টাইম বেঁধে দেওয়া, খেলাধুলো, শিল্পচর্চা ও সামাজিক কার্যকলাপে শিশুদের উৎসাহিত করার পরামর্শও উঠে এসেছে সমীক্ষায়।
এ ক্ষেত্রে অভিভাবক-অভিভাবিকাদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার। শিশুদের হাতে যেন সহজে মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা ট্যাব তুলে না দেওয়া হয়—এই বার্তাও স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে। নাবালক-নাবালিকাদের অনলাইন আসক্তি কাটাতে অভিভাবকদের জন্য বিশেষ কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
সমীক্ষা অনুযায়ী, অনলাইন আসক্তি কমানো গেলে শিশুদের মধ্যে যৌনতা, হিংসাত্মক আচরণ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হতে পারে। সব মিলিয়ে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে বড় করে তুলতে ডিজিটাল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের পথে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে ভারত।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.