পুরনো সোনা বিক্রি করতে গয়নার দোকানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, বিশুদ্ধতা পরীক্ষা আর দাম নিয়ে দর কষাকষির দিন এবার শেষের পথে। ফিনটেক সংস্থা গোল্ডসিক্কা (Goldsikka) ভারতের প্রথম এআই-চালিত গোল্ড এটিএম (Gold ATM) চালু করেছে। দেশের প্রথম এই অত্যাধুনিক গোল্ড এটিএম বসানো হয়েছে হায়দ্রাবাদে।
এই গোল্ড এটিএম-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এখন পুরনো সোনার গয়না, মুদ্রা বা অন্যান্য সোনার সামগ্রী বিক্রি করে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পেয়ে যাবেন। এর জন্য আর কোনও দোকানে যাওয়া বা মানুষের উপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই।
কীভাবে কাজ করে গোল্ড এটিএম?
এই মেশিনটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি নির্ভর। ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি এমন—
1. গ্রাহক মেশিনে পুরনো সোনা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি গলানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
2. এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সোনার বিশুদ্ধতা ও ওজন নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা হয়।
3. এরপর লাইভ গোল্ড মার্কেট রেট অনুযায়ী সোনার মূল্য গণনা করা হয়।
4. সব যাচাই শেষ হলে, নির্ধারিত অর্থ সরাসরি গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনও কাগজপত্র বা মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন পড়ে না।
গোল্ড এটিএম-এর বিশেষ সুবিধা
দোকানে যাওয়ার ঝামেলা নেই
দর কষাকষির প্রয়োজন নেই
দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য লেনদেন
২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাত দিন পরিষেবা
০.৫ গ্রাম থেকে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনার মুদ্রা সরাসরি কেনার সুবিধা
এছাড়াও এই মেশিনে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা ভার্চুয়ালি গয়না পরে দেখতে পারবেন—কোন গয়নাটি তাঁদের কেমন দেখাবে, তা আগেই বোঝা যাবে।
নিরাপত্তা ও ব্লক হওয়ার কারণ
অপব্যবহার রোধ করতে গোল্ড এটিএম-এ রয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
লেনদেনের আগে KYC যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক
সিস্টেমে অপরাধমূলক রেকর্ড পরীক্ষা করা হয়
কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে লেনদেন ব্লক করে দেওয়া হয়
ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের গোল্ড এটিএম চালু হলে ভবিষ্যতে সোনা কেনা-বেচার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। সাধারণ মানুষের জন্য এটি যেমন সময় বাঁচাবে, তেমনই স্বচ্ছ ও নিরাপদ লেনদেনের পথ খুলে দেবে।
হায়দ্রাবাদ থেকে শুরু হলেও, খুব শিগগিরই ভারতের অন্যান্য বড় শহরেও এই গোল্ড এটিএম চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।