প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল শিবপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (IIEST)। প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রথম ‘অন-ডিমান্ড গ্রিন হাইড্রোজেন কুকিং আভেন’ উন্মোচন করেছে, যা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এবং ভবিষ্যতের রান্নাঘরের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্বেগের মধ্যে এই প্রযুক্তি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এই ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য হল প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক হাইড্রোজেন উৎপাদন। ফলে আলাদা করে উচ্চচাপের হাইড্রোজেন সিলিন্ডার সংরক্ষণ বা পরিবহণের প্রয়োজন পড়বে না।
প্রযুক্তিটির কার্যপদ্ধতি অত্যন্ত অভিনব। জলকে বিদ্যুতের সাহায্যে তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভেঙে হাইড্রোজেন তৈরি করা হয়। উৎপন্ন হাইড্রোজেন সরাসরি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতিতে রান্নার সময় কোনও কার্বন নির্গমন ঘটে না। হাইড্রোজেন জ্বলনের ফলে মূলত জলীয় বাষ্প তৈরি হয়, যা পরিবেশের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
IIEST জানিয়েছে, বাণিজ্যিক রান্নাঘরের চাহিদা মাথায় রেখে আভেনটি তৈরি করা হয়েছে। ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্লাউড কিচেন, কর্পোরেট ক্যান্টিন এবং বৃহৎ পরিসরের কমিউনিটি কিচেনে এটি ব্যবহার করা সম্ভব হবে। একসঙ্গে বেশি পরিমাণ খাবার প্রস্তুত করার উপযোগী হওয়ায় গণখাদ্য কর্মসূচির ক্ষেত্রেও এর প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের মিড-ডে মিল প্রকল্পের মতো বৃহৎ রান্না-ভিত্তিক সামাজিক কর্মসূচিতে এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। যদি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে এই হাইড্রোজেন উৎপাদন প্রযুক্তিকে যুক্ত করা যায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত কম খরচে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে রান্নার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে।
নিরাপত্তার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাইড্রোজেন একটি অত্যন্ত দাহ্য গ্যাস হওয়ায় আভেনটিতে উন্নতমানের লিক-ডিটেকশন ব্যবস্থা, ডিজিটাল ফ্লেম মনিটরিং, স্বয়ংক্রিয় চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক শাটডাউন প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। ফলে শিল্প ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বজায় রাখা সহজ হবে বলে গবেষকদের দাবি।
প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষা—দুটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত, বিকেন্দ্রীভূত এবং পরিচ্ছন্ন শক্তির উৎস হিসেবে গ্রিন হাইড্রোজেন ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। নতুন এই কুকিং আভেন সেই সম্ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
তবে আপাতত প্রযুক্তিটি মূলত বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ গৃহস্থালির রান্নাঘরে এই সুবিধা পৌঁছতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে। গবেষণা, উৎপাদন ব্যয় এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রযুক্তিটি আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা, কার্বন নির্গমন হ্রাস এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে IIEST-এর এই উদ্যোগকে দেশের গ্রিন এনার্জি যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.