বাংলাদেশের জনপ্রিয় গায়ক ও আওয়ামী লীগের নেতা প্রলয় চাকীর মৃত্যু ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। রবিবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। গত দু’বছর ধরে তিনি পাবনা জেলা সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন। প্রলয়ের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার অভিযোগ তুলেছে, যথাযথ ও সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়াতেই তাঁর প্রাণ চলে গেছে।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই প্রলয় গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন। কারাবন্দি অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা সময়মতো দেওয়া হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, যদি আগে উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হত, তবে হয়তো প্রলয়ের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হত।
তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। পাবনা জেলা সংশোধনাগারের সুপার ওমর ফারুক জানিয়েছেন, প্রলয় চাকী ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগসহ একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর কথায়, “রবিবার রাত ৯টার পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রলয়ের মৃত্যু হয়েছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানেই ছিলেন।”
সংশোধনাগারের অন্যান্য কর্মকর্তারাও একই সুরে কথা বলেছেন। তাঁদের দাবি, কারাগারে থাকাকালীনই প্রলয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরিস্থিতি গুরুতর বুঝে সংশোধনাগারের চিকিৎসকেরা দ্রুত তাঁকে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখান থেকে অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় শুক্রবার গভীর রাতে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রলয় চাকী কেবল একজন জনপ্রিয় গায়কই ছিলেন না, তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। আওয়ামী লীগের পাবনা জেলা শাখার সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে নির্বাসনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে। সেই সময় আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রশাসনিক অভিযান শুরু হয়। ওই অভিযানের মধ্যেই গ্রেফতার হন প্রলয় চাকী। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের হয়েছিল বলে জানা যায়।
প্রলয়ের মৃত্যু তাই শুধু একজন শিল্পীর প্রয়াণ নয়, বরং রাজনীতি, প্রশাসন ও মানবাধিকার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চিকিৎসায় গাফিলতি হয়েছিল কি না, নাকি দীর্ঘস্থায়ী রোগই তাঁর মৃত্যুর কারণ—এই প্রশ্নের উত্তর ঘিরে এখন নজর পরিবার, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের।