টলিউডের জনপ্রিয় সঙ্গীতজুটি জয় সরকার ও লোপামুদ্রা মিত্র—তাঁদের সম্পর্ক যেমন সুরেলা, তেমনই রসিকতায় ভরা। সম্প্রতি একটি বিলাসবহুল পিয়ানো ঘিরে তাঁদের মজার কথোপকথন সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে।
‘প্রেমে’ পড়লেন জয়!
ঘটনার সূত্রপাত একটি মিউজিক স্টোরে। সেখানে গিয়ে একটি ঝকঝকে Yamaha GB1K Grand Piano দেখে মুগ্ধ হয়ে পড়েন জয়। পিয়ানোর সামনে বসে ছবি তুলে তিনি পোস্ট করেন—বাদ্যযন্ত্রটির রাজকীয় সাউন্ড ও লুকের প্রশংসা করে।
এই ‘প্রশংসা’ই যেন অন্য মাত্রা পায় যখন বিষয়টি নজরে আসে তাঁর স্ত্রীর।
লোপার ‘সতীন’ মন্তব্যে ঝড়
জয়ের পোস্টে মজার ছলে মন্তব্য করেন লোপামুদ্রা—
“ভাল্লাগেনা, আরও একটা সতীন জুটলো!”
এই একটি মন্তব্যেই নেটপাড়ায় হাসির রোল পড়ে যায়। পিয়ানোর প্রতি জয়ের এত আকর্ষণ দেখে লোপার এই ‘সতীন’ তুলনা যেন দাম্পত্য রসিকতার এক নিখুঁত উদাহরণ হয়ে ওঠে।
জয়ের মজার জবাব
স্ত্রীর খোঁচা এড়িয়ে না গিয়ে জয়ও পাল্টা মজার উত্তর দেন। তিনি জানান, পিয়ানোটি তাঁর কেনা নয়। এমনকি মজা করে বলেন—
এই পিয়ানো কিনতে গেলে নাকি তাঁকে নিজেকেই বিক্রি করতে হবে!
তিনি আরও জানান, শুধু দোকানে গিয়ে পিয়ানোটি একটু দেখে এসেছেন, আর “পরের জন্মের জন্য বুকিং” করে এসেছেন। উল্লেখযোগ্য, এই ধরনের গ্র্যান্ড পিয়ানোর দাম প্রায় ৬০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি।
নেটদুনিয়ায় প্রশংসার ঝড়
এই দম্পতির মিষ্টি কথোপকথন মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। অনুরাগীরা তাঁদের রসিকতা ও সহজাত সম্পর্কের প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। কেউ কেউ মজার ছলে লিখেছেন—
“লোপাদি থাকতে নতুন সতীনের জায়গা নেই, তবে পিয়ানোটা কিন্তু সত্যিই সুন্দর!”
২৬ বছরের সম্পর্ক, এখনও টাটকা
জয় ও লোপামুদ্রার দাম্পত্য প্রায় ২৬ বছরের। তাঁদের প্রেমের শুরুটাও ছিল বেশ নাটকীয়—ঝগড়ার মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে ভালোবাসা। বয়সের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও কখনও তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
লোপামুদ্রা প্রায়ই মজা করে জয়কে খোঁচা দেন, আর সেই খুনসুটিই তাঁদের সম্পর্ককে করে তুলেছে আরও প্রাণবন্ত।
গানই তাঁদের জীবন
এই দম্পতির কোনও সন্তান নেই। তবে সঙ্গীতই তাঁদের জীবনের মূল কেন্দ্র। গান, সুর আর সৃষ্টিশীলতার মধ্যেই তাঁরা তাঁদের জীবনকে উপভোগ করছেন।
উপসংহার
একটি পিয়ানোকে ঘিরে শুরু হওয়া ছোট্ট মজার ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—সম্পর্কের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে হাসি, খুনসুটি আর পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্যে। জয়-লোপার এই মুহূর্ত যেন সেই সুরেরই এক সুন্দর প্রতিধ্বনি।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.