দেশের রাজধানী Delhi-তে দূষণ কমাতে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। নতুন ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) নীতি ২০২৬-২০৩০-এর খসড়া ইতিমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ধাপে ধাপে পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক ব্যবস্থায় যাওয়ার রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়েছে।
এই খসড়া নীতিটি আপাতত জনমতের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে ৩০ দিনের জন্য। সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।
দু’চাকা ও তিনচাকায় বড় বদল
এই নীতির সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে রয়েছে দু’চাকা ও তিনচাকার ক্ষেত্রে।
১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন করে শুধুমাত্র ইলেকট্রিক তিনচাকা গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।
১ এপ্রিল ২০২৮ থেকে পেট্রল বা ডিজেল চালিত নতুন দু’চাকা গাড়ির রেজিস্ট্রেশন পুরোপুরি বন্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সময়ের পর বাজারে শুধুমাত্র ইলেকট্রিক বাইক ও স্কুটারই নতুন করে কেনা যাবে। সরকার মনে করছে, এই ধাপে ধাপে পরিবর্তন সাধারণ মানুষ ও গাড়ি শিল্প—দুই পক্ষকেই নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় দেবে।
বাণিজ্যিক যানবাহনে কড়া নিয়ন্ত্রণ
এই নীতিতে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অ্যাগ্রিগেটর পরিষেবায় (যেমন বাইক ট্যাক্সি, ডেলিভারি) নতুন পেট্রল বা ডিজেল গাড়ি যোগ করা যাবে না।
৩.৫ টন পর্যন্ত ছোট পণ্যবাহী গাড়ির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
বর্তমানে চলা BS-VI গাড়িগুলি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চালানো যাবে।
এতে করে শহরের বাণিজ্যিক যানবাহনের বড় অংশ ধীরে ধীরে ইলেকট্রিক হয়ে উঠবে।
স্কুল বাস ও সরকারি গাড়িতে ইলেকট্রিক জোর
* শুধু ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক গাড়িই নয়, সরকারি ও শিক্ষাক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
* স্কুল বাস ধাপে ধাপে ইলেকট্রিক করা হবে
* দ্বিতীয় বছরে ১০%, তৃতীয় বছরে ২০% এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০% বাস ইলেকট্রিক করার লক্ষ্য
* সরকারের নতুন সব গাড়িই হবে ইলেকট্রিক
ভাড়া বা লিজ়ে নেওয়া গাড়িও ধীরে ধীরে ইলেকট্রিকে রূপান্তর করা হবে
ভর্তুকি, কর ছাড় ও স্ক্র্যাপেজ সুবিধা
ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে একাধিক আর্থিক সুবিধার কথাও বলা হয়েছে।
২.২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দামের ইলেকট্রিক দু’চাকা গাড়িতে ব্যাটারির ক্ষমতা অনুযায়ী ভর্তুকি
সময়ের সঙ্গে এই ভর্তুকি কমে যাবে
ইলেকট্রিক গাড়িতে রোড ট্যাক্স ও রেজিস্ট্রেশন ফি সম্পূর্ণ মকুব
পুরনো BS-IV বা তার নিচের গাড়ি বাতিল করলে ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্ক্র্যাপেজ ইনসেনটিভ
কেন এই নীতি এত গুরুত্বপূর্ণ?
Delhi-তে শীতকালে বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করে। যানবাহনের ধোঁয়া এই দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস। সেই কারণেই ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়িয়ে দূষণ কমানোই এই নীতির মূল লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই শহরের বায়ুর গুণমানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যেতে পারে।
শেষ কথা
সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই Delhi-র রাস্তায় পেট্রল-ডিজেল গাড়ির সংখ্যা দ্রুত কমে যাবে এবং ইলেকট্রিক যানবাহনই হয়ে উঠবে প্রধান ভরসা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে জনমতই নির্ধারণ করবে এই নীতির ভবিষ্যৎ।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.