১৮ নভেম্বর ছিল অসমের কিংবদন্তি গায়ক ও সংগীত ব্যক্তিত্ব জুবিন গর্গের জন্মবার্ষিকী। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই তাঁর আকস্মিক মৃত্যু সংগীতজগতসহ অনুরাগীদের গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে। এখনও তাঁর ভক্তরা সেই শোক পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এর মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় আয়োজিত হচ্ছে স্মরণসভা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান। তেমনই এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে প্রয়াত শিল্পীকে স্মরণ করলেন সঙ্গীত পরিচালক বিক্রম ঘোষের স্ত্রী ও নৃত্যশিল্পী জয়া শীল।
একটি সাক্ষাৎকারে জয়া শীল জানালেন, জুবিনের প্রয়াণ তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকেও অন্যভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি বলেন,
“জুবিন ১৯ সেপ্টেম্বর চলে গেলেন। আর আশ্চর্যভাবে ওই দিনই আমার ছোট ছেলের জন্মদিন। জানি না এ বছর থেকে কিভাবে ওর জন্মদিন উদযাপন করব। দু’জনের স্মৃতি হয়তো এভাবেই জড়িয়ে থাকবে।”
জয়া স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, বম্বেতে তাঁর পেশাগত জীবনের শুরুতেই জুবিন গর্গকে চিনেছিলেন তিনি। বিশেষ করে জুবিনের জনপ্রিয় অ্যালবাম ‘মায়া’ তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর মতে,
“অসমের মানুষের কাছে জুবিনের সুর এক বিশাল প্রাপ্তি। শুধু অসম নয়, দেশের কাছে ও গর্বের। ৪০টি ভাষায় প্রায় ৪০ হাজার গান— এমন অবিশ্বাস্য সৃষ্টিশীলতা খুব কম শিল্পীর মধ্যেই দেখা যায়।”
জয়া আরও বলেন, জুবিন শুধু গায়ক নন, ছিলেন অসাধারণ পারফেকশনিস্ট। চলচ্চিত্র নির্মাণেও তিনি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে গিয়েছেন। অসমের চলচ্চিত্র শিল্পকে দেশের মূলধারার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন বারবার।
“অসমের হলে যাতে দর্শক বাড়ে, সেই চেষ্টা শেষ দিন পর্যন্ত করেছে ও,”— বলেন জয়া।
মানুষ হিসেবে জুবিন কেমন ছিলেন, তারও উল্লেখ করেন তিনি।
“একজন বাঙালি হিসেবে আমি বুঝতে পারি— বাঙালি ও অসমীয়াদের মধ্যে ভালোবাসার বন্ধন কতটা শক্ত। জুবিন সেটা আরও দৃঢ় করে দিয়ে গিয়েছেন। রাজ্য-ধর্ম-বর্ণ ছাড়িয়ে মানুষকে ভালোবাসা যায়— এটা ও আমাদের শিখিয়েছে।”
জয়া শীলের কথায় স্পষ্ট, ব্যক্তিগত ও শিল্পজগত— দুই পরিসরেই জুবিন গর্গের অভাব দীর্ঘদিন অনুভূত হবে।
এদিকে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে একটি সঙ্গীত উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে трагিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। জলবিয়োগে মৃত্যু বলে প্রথমে ধারণা করা হলেও, সিঙ্গাপুর পুলিশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়—
জুবিনের মৃত্যু স্কুবা ডাইভিং-সংক্রান্ত নয়।
অসমের এই কিংবদন্তিকে ঘিরে শোক, স্মৃতি ও শ্রদ্ধার তরঙ্গ এখনো থামেনি। ভক্তদের মতোই তাঁর সহকর্মীরাও বলছেন—
“জুবিনকে মিস করব সব সময়, আর তাঁকে মনে রেখে উদযাপন করব তাঁর সুরসৃষ্টি।”
FAQ
প্রশ্ন ১: জয়া শীল কেন বলেন যে ১৯ সেপ্টেম্বর তাঁর কাছে বিশেষ একটি দিন?
উত্তর: কারণ ১৯ সেপ্টেম্বরই জুবিন গর্গ প্রয়াত হন, আর একই দিনে জয়ার ছোট ছেলের জন্মদিন। তাই দিনটি তাঁর কাছে আবেগঘন হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন
Subhasree-Yalini: বাবার ক্যামেরা দেখতেই মা’কে জড়িয়ে ধরলো ইয়ালিনী! দেখুন সেই মিষ্টি মুহূর্তের ভিডিও
প্রশ্ন ২: জয়া শীল কোন অ্যালবাম থেকে জুবিন গর্গকে নতুনভাবে চিনতে শুরু করেন?
উত্তর: জয়া শীল জানান, জুবিন গর্গের ‘মায়া’ অ্যালবাম থেকেই তিনি তাঁর সংগীতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হন।
প্রশ্ন ৩: জুবিন গর্গের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সিঙ্গাপুর পুলিশের ময়নাতদন্তে কী বলা হয়েছে?
উত্তর: ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুবিন গর্গের মৃত্যু স্কুবা ডাইভিং-সংক্রান্ত নয়; অর্থাৎ স্কুবা মৃত্যু নয়।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.