বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরমাণু সংঘাতের আশঙ্কা যতই বাড়ছে, ততই নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে বিভিন্ন প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণী। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে— মানবসভ্যতা কি তবে এক ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের দিকে এগোচ্ছে? এই আবহে ওড়িশার পঞ্চসখা সন্তদের অন্যতম মহাপুরুষ অচ্যুতানন্দ দাসের রচিত ‘ভবিষ্যমালিকা’ এবং তেলুগু সাধক পোতুলুরি বীরব্রহ্মেন্দ্র স্বামীর ‘কালজ্ঞানম’ গ্রন্থকে ঘিরে ফের শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
প্রাচীন এই পুঁথিগুলিতে এমন এক মহাযুদ্ধের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা বহু মানুষের মতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত বহন করে। তবে এই যুদ্ধকে কেবল রাষ্ট্রশক্তির সংঘর্ষ হিসেবে নয়, বরং ধর্ম ও অধর্মের মধ্যে চূড়ান্ত লড়াই হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। গ্রন্থগুলির দাবি, এই ভয়াবহ সংঘাতের মধ্য দিয়েই আবির্ভাব ঘটবে ভগবান বিষ্ণুর দশম অবতার কল্কির।
‘ভবিষ্যমালিকা’য় বর্ণিত হয়েছে, ভবিষ্যতের এই মহাযুদ্ধের সময় পৃথিবীর পরিবেশ ভয়ঙ্করভাবে বদলে যাবে। বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠবে, খাদ্য ও পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দেবে এবং গোটা বিশ্বে নেমে আসবে এক নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয়। এমনকি আকাশে একসঙ্গে ‘দুটি সূর্য’-এর মতো তীব্র আলোর উপস্থিতির কথাও উল্লেখ রয়েছে। আধুনিক গবেষকদের একাংশের মতে, এই বর্ণনা পারমাণবিক বিস্ফোরণ বা কোনো মহাজাগতিক বিপর্যয়ের প্রতীক হতে পারে।
মহাপুরুষ অচ্যুতানন্দ দাসের গণনা অনুযায়ী, এই ভয়ঙ্কর সংঘাত প্রায় ছয় বছর ছয় মাস ধরে চলতে পারে। ওই সময়কালে উন্নত ও শক্তিশালী দেশগুলিও আধুনিক মারণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ধ্বংসের এই আবহের মধ্যেও ‘ভবিষ্যমালিকা’ একটি আশার বার্তা দেয়। গ্রন্থে বলা হয়েছে, সংকটের সেই সময়ে ভারত একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং বিশ্বনেতৃত্বের কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। দেশের নেতৃত্বে থাকবেন এক শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব, যাঁর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল কল্কি অবতারের আগমন সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কলিযুগের একেবারে শেষ সময়ে, কয়েক লক্ষ বছর পরে কল্কি অবতারের আবির্ভাব ঘটবে। কিন্তু ‘ভবিষ্যমালিকা’ ও ‘কালজ্ঞানম’-এ ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। এই গ্রন্থগুলির দাবি, যখন পাপ, অন্যায় ও অত্যাচার চরমে পৌঁছবে এবং সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে, তখনই কল্কি প্রকাশ্যে আসবেন।
আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে যে, কল্কি নাকি ইতিমধ্যেই পৃথিবীতে মানব শরীরে ‘গুপ্ত’ রূপে অবস্থান করছেন। তিনি আপাতত এক সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করছেন এবং উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় রয়েছেন। সময় এলেই তিনি নিজের দিব্য শক্তি প্রকাশ করবেন। শাস্ত্রে বর্ণিত তাঁর রূপ— শ্বেত ঘোড়ায় আরোহী এবং হাতে উজ্জ্বল তলোয়ার— নিয়েই তিনি অধার্মিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধর্মযুদ্ধে তাঁর সঙ্গে পঞ্চসখা এবং চৌষট্টি যোগিনীর মতো আধ্যাত্মিক শক্তিও থাকবে বলে বিশ্বাস করা হয়।
গ্রন্থগুলিতে আরও দাবি করা হয়েছে, এই মহাবিনাশের পর পৃথিবীতে শুরু হবে এক নতুন যুগের। কলিযুগের অবসান ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে সত্যযুগ। সেই নতুন যুগে কেবল তাঁরাই বেঁচে থাকবেন, যাঁরা সত্য, অহিংসা, সদাচার এবং ঈশ্বরবিশ্বাসের পথে অবিচল থেকেছেন।
যুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে প্রকৃতির ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে বলেও উল্লেখ রয়েছে। বায়ুমণ্ডল হবে দূষণমুক্ত, রোগব্যাধির প্রকোপ কমে যাবে এবং মানুষের আয়ু বৃদ্ধি পাবে। সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, জাতিভেদ এবং ধর্মীয় সংকীর্ণতা দূর হবে। মানুষের জীবনে ফিরে আসবে শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক ভালোবাসা।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ‘ভবিষ্যমালিকা’ বা ‘কালজ্ঞানম’-এ বর্ণিত এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও বিজ্ঞানসম্মত বা ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গবেষকদের একাংশ এগুলিকে আধ্যাত্মিক প্রতীক ও ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হিসেবেই দেখেন। তবুও অস্থির সময়ের মধ্যে এই ধরনের প্রাচীন গ্রন্থ মানুষের মনে নৈতিকতা, সততা এবং মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্বকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.