কলকাতার রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরেই যানজট ও বেআইনি পার্কিং বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকার কারণে যেমন যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনই সাধারণ পথচারীদেরও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজ্যের নতুন সরকার।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্ধারিত পার্কিং জোন ছাড়া অন্য কোথাও গাড়ি রাখা হলে চালকদের গুনতে হতে পারে ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। বিশেষ করে নো-পার্কিং এলাকায় গাড়ি দাঁড় করানো নিয়ে এবার থেকে আর কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না বলে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এই নিয়ম কার্যকর করতে কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ইতিমধ্যেই শহরের একাধিক ট্রাফিক গার্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র কলকাতা পুরসভার অনুমোদিত পার্কিং জোনেই গাড়ি রাখা যাবে। অনুমতি ছাড়া রাস্তার ধারে গাড়ি দাঁড় করিয়ে টাকা তোলা বা অবৈধ পার্কিং ব্যবসা চালালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পার্কিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত করতে একাধিক নতুন নির্দেশও জারি করা হয়েছে। অনুমোদিত পার্কিং জোনে শুধুমাত্র এক লাইনে গাড়ি রাখার নিয়ম কার্যকর হবে। কোথায় কতটা জায়গা পার্কিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট, তা বোর্ডে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি পার্কিং ফি কত, সেটিও দৃশ্যমানভাবে লিখে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পার্কিং কর্মীদের ইউনিফর্ম পরাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই বৈধ ও অবৈধ পার্কিং পরিষেবার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারেন।
পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনিভাবে পার্কিং করিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই অর্থ সরকারি খাতে জমা পড়ে না বলেও তিনি দাবি করেন। তাই এই অনিয়ম বন্ধ করতে প্রশাসন এবার সরাসরি অভিযানে নেমেছে। তাঁর কথায়, রাস্তার দু’পাশে অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং বন্ধ হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সুবিধা হবে এবং শহরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থাও অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।
রাজ্যের আরেক মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও এই বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যেখানে পার্কিংয়ের অনুমতি রয়েছে, শুধুমাত্র সেখানেই গাড়ি রাখা উচিত। শহরের বিভিন্ন জায়গায় যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করানোর প্রবণতা সাধারণ মানুষের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও কলকাতায় রাস্তার ধারের পার্কিং নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সকালে রাস্তা পরিষ্কার ও আবর্জনা অপসারণের সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাস্তার ধারে পার্কিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছিল। তবে এবার নতুন সরকারের কঠোর অবস্থান কতটা কার্যকর হয় এবং শহরের যানজট পরিস্থিতি কতটা বদলায়, সেদিকেই নজর রয়েছে কলকাতাবাসীর।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.