বর্তমান সময়ে অনেকের কাজই দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে করা। অফিস, ব্যাঙ্ক, আইটি সেক্টর কিংবা বাড়িতে অনলাইন কাজ—সব ক্ষেত্রেই দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে চেয়ারে বসে। কিন্তু এই অভ্যাস অজান্তেই শরীরের নিতম্বের পেশি এবং অস্থিসন্ধির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
এমনই এক ঘটনার মুখোমুখি হন ৩৯ বছরের এক ব্যাঙ্ক কর্মী সলিল। একদিন দীর্ঘক্ষণ কাজের পর চেয়ার থেকে উঠতে গিয়ে তীব্র যন্ত্রণায় প্রায় দাঁড়াতেই পারছিলেন না তিনি। সহকর্মীদের সাহায্যে কোনও মতে বাড়ি ফিরতে হয় তাঁকে। পরে চিকিৎসকের কাছে জানা যায়, তাঁর নিতম্বের অস্থিসন্ধিতে ‘বারসাইটিস’ নামে একটি প্রদাহজনিত সমস্যা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকার কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের অনেকটা সময় চেয়ারে বসে কাটালে নিতম্বের পেশি ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যায়। শরীরের নড়াচড়া কমে গেলে হিপ জয়েন্টের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়। এর ফলে একাধিক শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রথমত, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে নিতম্বের পেশি সংকুচিত হয়ে যায় এবং নমনীয়তা কমে যায়। এতে কোমরের নিচের অংশে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা থেকে লোয়ার ব্যাক পেন বা কোমর ব্যথা দেখা দেয়।
দ্বিতীয়ত, নিতম্বের পেশি দুর্বল হয়ে গেলে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর ফলে সঠিক ভঙ্গিতে বসা বা দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে মেরুদণ্ডের ওপরও চাপ বাড়তে থাকে।
এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ‘গ্লুটিয়াল অ্যামনেশিয়া’ নামের সমস্যাও দেখা দেয়। এতে নিতম্বের প্রধান পেশিগুলো ঠিকমতো সক্রিয় থাকে না। এর ফলে হাঁটা, দৌড়ানো বা সিঁড়ি ওঠানামার সময়ও অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।
হিপ জয়েন্ট শক্ত হয়ে গেলে তার প্রভাব শরীরের অন্যান্য অংশেও পড়ে। হাঁটু এবং গোড়ালির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, ফলে সেখানে ব্যথা বা আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। পাশাপাশি শরীরের নিচের অংশে রক্ত সঞ্চালন কমে গেলে নানা ধরনের অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
এই সমস্যাগুলি এড়াতে বিশেষজ্ঞরা নিতম্বের নমনীয়তা বা হিপ ফ্লেক্সিবিলিটি বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দেন। নিয়মিত কিছু সহজ যোগব্যায়াম করলে এই নমনীয়তা অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব।
অঞ্জনীয়াসন
এই যোগাসনটি নিতম্বের সামনের পেশিকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে কোমর এবং হিপের যে জড়তা তৈরি হয়, তা দূর করতে এই আসনটি কার্যকর। এক পা সামনে ভাঁজ করে রেখে অন্য পা পিছনে সোজা রেখে শরীর সামান্য পেছনে বাঁকিয়ে এই আসন করা হয়।
কপোতাসন
এটি হিপ ওপেনার হিসেবে পরিচিত একটি শক্তিশালী যোগাসন। নিতম্বের পেশির টান কমাতে এবং জয়েন্টের নমনীয়তা বাড়াতে এই ব্যায়াম বিশেষভাবে উপকারী। এতে এক পা সামনে ভাঁজ করে এবং অন্য পা পেছনে সোজা রেখে বুক সোজা করে কিছুক্ষণ স্থির থাকতে হয়।
বদ্ধ কোনাসন
সব বয়সের মানুষের জন্য সহজ ও কার্যকর এই আসনটি। এতে দুই পায়ের পাতা একসঙ্গে মিলিয়ে বসে প্রজাপতির ডানার মতো ধীরে ধীরে পা ওঠানামা করতে হয়। এতে কুঁচকি ও হিপ জয়েন্টে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং পেশি শিথিল হয়।
তবে যাদের আগে থেকেই নিতম্ব বা হাঁটুর গুরুতর সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কোনও ব্যায়াম শুরু না করাই ভাল।
সব মিলিয়ে বলা যায়, দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই মাঝেমধ্যে চেয়ার ছেড়ে হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং করা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা খুবই জরুরি। এতে নিতম্বের পেশি সচল থাকবে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যার ঝুঁকিও কমবে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.