জ়ুবিন গার্গকে শেষ বারের মত দেখতে হাজার হাজার মানুষ গুয়াহাটির পথে নেমেছিলেন। সচরাচর এমন দৃশ্য দেখা যায় না। গায়কের আচমকা মৃত্যু কিছুতেই মানতে পারছেন না তার ভক্তরা। ৪০টিরও বেশি ভাষায় গান গেয়ে অগুনতি মানুষের হৃদয়ে ঘর করেছেন জুবিন, দেশ ছেড়ে বিদেশেও তার অগুনতি ভক্ত রয়েছে। অসমে তিনি কত বড় মাপের শিল্পী ছিলেন তা গোটা বিশ্ব দেখতে পেয়েছে। এরই মাঝে প্রয়াত শিল্পীর সম্পত্তির প্রসঙ্গ উঠে এসেছে আলোচনায়। জানেন কী, জুবিন গার্গের সম্পত্তির পরিমান কত?
অসমে জুবিন গার্গের অনুরাগীদের মতে, জ়ুবিন শুধুমাত্র একজন গায়ক ছিলেন না। একটা গোটা যুগের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি। ২০০০ সালের মধ্যে অসমের মানুষের অন্যতম প্রিয় শিল্পী হয়ে উঠেছিলেন জ়ুবিন গার্গ। তিনি অসমীয়া, বাংলা ও হিন্দি-সহ একাধিক ভাষায় গান গেয়েছিলেন। তার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ছবির গান এবং অনুষ্ঠানে গান গেয়ে দিব্বি রোজগার করেছেন তিনি। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ়ুবিনের সম্পত্তির পরিমাণ ৭০ কোটি টাকা।
সূত্র মারফত খবর, তাঁর এই সম্পত্তির মধ্যে বিজ্ঞাপনের কাজ থেকে অর্জিত পারিশ্রমিকও রয়েছে। তবে মাসে তিনি ঠিক কত টাকা রোজগার করতেন? তার কোনও সঠিক হিসেব এখনও পর্যন্ত জন্প্রকাশ্যে আসেনি। আরও জানা গিয়েছে, সেই ভাবে তিনি অর্থের পিছনে ছুটতেন না বলেই। তিনি সব সময় সক্রিয় থাকতেন না। তবে গানের বড় প্রজেক্ট থাকলে সেখানে ১০০ শতাংশ পরিশ্রম করতেন শিল্পী জুবিন। সারা বিশ্বে পরিচিতি পেলেও, নিজের রাজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। বড় বড় শহরের হইচই থেকে অনেক দূরে, শান্তিতে থাকতেই বেশি পছন্দ করতেন। এমনকি নিজের বাড়িটি সাজিয়েছিলেন অসমের তৈরি বিভিন্ন জিনিস দিয়ে। বাঁশের তৈরি জিনিস,বিভিন্ন হস্তশিল্প এবং হাতে আঁকা ছবি দিয়ে সাজিয়েছিলেন নিজের স্টুডিয়ো। আরও জানাগিয়েছে, গাড়ি ও মোটর বাইকের প্রতি তাঁর বিশেষ ঝোঁক ছিল। মার্সিডিজ় বেঞ্জ (Mercedes-Benz), রেঞ্জ রোভার(Range Rover)-সহ বড় সম্ভার ছিল শিল্পীর। বরাবরই রোমাঞ্চ পছন্দ করতেন। কিন্তু জলে ভয় পেতেন তিনি। যেকারনে তাঁর মৃত্যুর একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে অনেক ভক্তের মতে, জলে ভয় থাকা সত্ত্বেও তিনি কী ভাবে স্কুবা ডাইভিং করতে নেমেছিলেন?
আরও পড়ুন,
আজকাল মাটিতে পা পড়ছে না তার! কারণ, প্রেমিক ভীষণই সুখে রেখেছেন, জানালেন মধুমিতা
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,
গত শুক্রবার সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে জলের মধ্যেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন জ়ুবিন, এর পর দুপুর ২টো ৩০ নাগাদ তিনি মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন। সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন অনুষ্ঠান করতে। রবিবার তাঁর মৃতদেহ এসে পৌঁছোয় গুয়াহাটিতে। প্রয়াত শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাতে পথে নামেন অগুনতি মানুষ সে যেন জনসমুদ্র।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.