রেলযাত্রীদের জন্য ফের দুঃসংবাদ। রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজের জেরে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বিস্তীর্ণ অংশে একাধিক ট্রেন বাতিল, যাত্রাপথ পরিবর্তন ও সময় পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘কম্বাইন্ড রোলিং ব্লক’ কর্মসূচির আওতায় এই কাজ শুরু হয়েছে ২৬ জানুয়ারি থেকে, যা চলবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এর ফলে নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে দূরপাল্লার যাত্রীদের ভোগান্তির আশঙ্কা বাড়ছে।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতে আরও উন্নত পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ। তবে কাজ চলাকালীন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মেমু ও এক্সপ্রেস ট্রেনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হবে।
বাতিল ট্রেনের তালিকা
দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, একাধিক মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
আজ, ২৯ জানুয়ারি আসানসোল-আদ্রা-আসানসোল মেমু প্যাসেঞ্জার (ট্রেন নম্বর ৬৮০৪৬) পুরোপুরি বাতিল।
বর্ধমান-হাটিয়া-বর্ধমান মেমো এক্সপ্রেস (১৩৫০৩/১৩৫০৪) আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুধুমাত্র নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস জংশন (গোমো) পর্যন্ত চলবে। গোমো থেকে হাটিয়ার মধ্যে এই ট্রেনের পরিষেবা থাকছে না।
এছাড়া টাটানগর-আসানসোল বরাভূম মেমু প্যাসেঞ্জার (৬১০৫৬/৬৮০৬) আগামী ৩০ জানুয়ারি আদ্রা পর্যন্ত চলবে এবং সেখান থেকেই ফিরতি যাত্রা শুরু করবে। আদ্রা-আসানসোল অংশে ট্রেনটি বাতিল থাকবে।
পথ পরিবর্তিত ট্রেন
রেল লাইনের কাজের কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাপথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। টাটানগর-হাটিয়া এক্সপ্রেস (১৮৬০১) আজ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত চান্ডিল–পুরুলিয়া–কোটশিলা–মুরি রুটে না গিয়ে চান্ডিল–গুন্ডা বিহার–মুরি হয়ে যাতায়াত করবে।
সময় পুনর্নির্ধারণ
ট্রাফিক ব্লকের প্রভাব পড়েছে ট্রেনের সময়সূচিতেও। বক্সার-টাটানগর এক্সপ্রেস (১৮১৮৪) বক্সার স্টেশন থেকে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ৬০ মিনিট দেরিতে ছাড়বে বলে জানানো হয়েছে।
রেলের পক্ষ থেকে যাত্রীদের বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাত্রার আগে অবশ্যই ট্রেনের লাইভ স্ট্যাটাস যাচাই করে নেওয়ার জন্য। হঠাৎ করে স্টেশনে গিয়ে হয়রানি এড়াতে বিকল্প যাত্রাপথ বা সময় বিবেচনা করাও বুদ্ধিমানের। ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত এই সমস্যা চলতে পারে বলেই অনুমান, ফলে জরুরি কাজে বেরোনোর আগে বাড়তি সতর্কতা নেওয়াই এখন সবচেয়ে নিরাপদ পথ।