বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে অল্প বয়সেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। চিকিৎসকেরা বারবার সতর্ক করছেন— হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকা অত্যন্ত জরুরি।
আমাদের শরীরে অসংখ্য রক্তনালি রয়েছে, যা হৃৎপিণ্ড থেকে শরীরের প্রতিটি অঙ্গে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দেয়। কিন্তু অনেক সময় রক্ত ঘন হয়ে গেলে বা জমাট বাঁধলে সেই সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি হয়। এর ফলেই হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই রক্ত জমাট বাঁধা ঠেকাতে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসকেরা ‘ব্লাড থিনার’ ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন।
তবে ওষুধের পাশাপাশি কিছু প্রাকৃতিক উপাদানও রয়েছে, যেগুলি নিয়মিত ও পরিমিত মাত্রায় খেলে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে পারে। এগুলিকে প্রাকৃতিক ‘ব্লাড থিনার’ বলা হয়। দেখে নেওয়া যাক, এমনই ৫টি উপকারী খাবার—
রসুন:
রসুনে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-থ্রম্বোটিক গুণ। নিয়মিত রসুন খেলে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা কমতে পারে। পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও রসুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় বলে গবেষণায় জানা গেছে।
অর্জুন গাছের ছাল:
আয়ুর্বেদে হৃদ্রোগের ক্ষেত্রে অর্জুন গাছের ছাল অত্যন্ত উপকারী বলে মানা হয়। নিয়ম করে অর্জুনের ছাল জলে ভিজিয়ে সেই জল পান করলে তা প্রাকৃতিক ভাবে ব্লাড থিনারের কাজ করে এবং হৃদ্যন্ত্রের পেশিকে শক্তিশালী করে।
ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার:
ভিটামিন ই শরীরে বিভিন্ন উপায়ে রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে। বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ, সম্পূর্ণ শস্যে ভিটামিন ই প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। তবে যাঁরা ইতিমধ্যেই ব্লাড থিনার ওষুধ খান, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভিটামিন ই ক্ষতিকর হতে পারে— তাই সতর্কতা জরুরি।
দারচিনি:
বিশেষ করে ক্যাসিয়া দারচিনিতে থাকা ওয়ারফারিন জাতীয় উপাদান রক্ত পাতলা করতে সাহায্য করে। দৈনন্দিন খাবারে অল্প পরিমাণ দারচিনি ব্যবহার করলে তা প্রাকৃতিক ব্লাড থিনার হিসেবে কাজ করতে পারে।
আদা:
প্রদাহরোধী গুণে ভরপুর আদা রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে। এতে থাকা স্যালিসাইলেট উপাদান রক্ত জমাট বাঁধা রোধে কার্যকর ভূমিকা নেয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্য ও নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলি উপকারী হতে পারে। তবে যাঁরা আগে থেকেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত বা ব্লাড থিনার ওষুধ সেবন করছেন, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এই খাবারগুলি ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।