বড় বাড়ির দিন যেন ক্রমশ অতীত। শহরের বুকে ছোট ছোট ফ্ল্যাটেই আজ অধিকাংশ মানুষের বাস। জায়গার অভাবে ঘরের নানা জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখতে গিয়ে অনেকেই ভরসা করেন বিছানার নিচে বা বক্স খাটের উপর। কিন্তু এই অভ্যাসই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। চোখে না দেখা ধুলো, জীবাণু আর পোকামাকড়ের আস্তানা হয়ে উঠতে পারে বিছানার নিচের জায়গা, যা ধীরে ধীরে ক্ষতি করে স্বাস্থ্যের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিছানার নিচে রাখা পুরনো খবরের কাগজ ও কার্ডবোর্ড সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এই ধরনের কাগজে দ্রুত ধুলো জমে এবং সেখানেই জন্ম নেয় জীবাণু। এর ফলে বাড়ির সদস্যদের ডাস্ট অ্যালার্জি, হাঁচি, কাশি এমনকি শ্বাসকষ্টের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
অনেক বাড়িতে অতিরিক্ত কম্বল বা বালিশ বক্স খাটের ভিতরে রাখা হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হলে সেগুলিতে ধুলো ও মাইট জমে। হঠাৎ সেই কম্বল বা বালিশ ব্যবহার করলে অ্যালার্জি, অ্যাজমার মতো সমস্যার আশঙ্কা থাকে। তাই এগুলি রাখলে অবশ্যই ভালোভাবে কভার দিয়ে ঢেকে রাখা জরুরি।
চামড়ার ব্যাগ ও জুতো বিছানার নিচে রাখাও একেবারেই উচিত নয়। এতে যেমন চামড়ার ক্ষতি হয়, তেমনই আর্দ্রতা ও অন্ধকার পরিবেশে জীবাণু দ্রুত ছড়ায়। এই জিনিসগুলি রোগের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠতে পারে।
অনেকে বড় স্যুটকেস বিছানার তলায় গুঁজে রাখেন। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না হলে সেগুলিতেও ধুলো ও পোকামাকড় বাসা বাঁধে। একইভাবে খাবার জিনিস বিছানার নিচে রাখা অত্যন্ত বিপজ্জনক—খাবার নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ইঁদুর ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ে।
বৈদ্যুতিন সামগ্রী ধুলো খুব দ্রুত আকর্ষণ করে। তাই কোনও ইলেকট্রনিক জিনিস বিছানার তলায় রাখলে তা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ায়।
এছাড়া, অব্যবহার্য পুরনো পোশাক জমিয়ে রাখার অভ্যাসও ক্ষতিকর। বাস্তুশাস্ত্রবিদদের মতে, এই ধরনের জিনিস ঘরে জমে থাকলে মানসিক অস্থিরতা ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় পোশাক যত দ্রুত সম্ভব বাড়ির বাইরে সরিয়ে দেওয়াই ভালো।
সব মিলিয়ে, জায়গার অভাবে বিছানার নিচে জিনিস রাখা যতটা সুবিধার, ততটাই বিপজ্জনকও। সুস্থ থাকতে হলে এই জায়গা যতটা সম্ভব ফাঁকা ও পরিষ্কার রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.