চুল পড়া এখন অনেকেরই নিত্যদিনের সমস্যা। মহিলা বা পুরুষ— দুই ক্ষেত্রেই মাথার সামনের দিকের চুল ঝরে পড়া দ্রুত টাক পড়ার লক্ষণ তৈরি করে। সাধারণত দিনে ৫০ থেকে ১০০টি চুল ঝরা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু যখন এই মাত্রা বেড়ে যায় অথবা ঝরে যাওয়া চুলের জায়গায় নতুন চুল গজায় না, তখন বিষয়টি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। অনেকেই বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের তেল বা শ্যাম্পু ব্যবহার করেও সমাধান পান না। তাই প্রয়োজন চুলের গঠন ও মাথার ত্বকের উপযোগী প্রাকৃতিক সমাধান বেছে নেওয়া।
ক্যাস্টর অয়েল: পুষ্টিতে ভরপুর
‘জার্নাল অফ কসমেটিক ডার্মাটোলজি’-এর গবেষণা অনুযায়ী ক্যাস্টর অয়েলে থাকা ওমেগা–৩ ও ওমেগা–৬ ফ্যাটি অ্যাসিড মাথার ত্বক পুষ্ট রাখে এবং চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে। রাইসিনোলেয়িক অ্যাসিড চুলকে নরম ও মসৃণ করে, পাশাপাশি চুল পড়াও কমায়।
ব্যবহারবিধি
১–২ চামচ ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে ১ চামচ নারকেল তেল ও ১ চামচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে চুলে ধীরে ধীরে মালিশ করুন।
৩০ মিনিট পর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল: চুলের গোড়া মজবুত করে
রোজমেরি অয়েল দীর্ঘদিন ধরেই চুল পড়া কমাতে কার্যকর হিসাবে পরিচিত। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছে দেয়।
ব্যবহারবিধি
৫–১০ ফোঁটা রোজমেরি অয়েল নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলে মিশিয়ে মাথার ত্বকে ১০ মিনিট মালিশ করুন।
অর্ধঘণ্টা রেখে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন।
আমলকি তেল: ভিটামিন–ই ও কোলাজেনে সমৃদ্ধ
আমলকি চুলের জন্য অন্যতম পুষ্টিকর উপাদান। এতে থাকা কোলাজেন ও ভিটামিন–ই চুলকে শক্তিশালী করে, মাথার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং খুশকি কমায়।
তৈরি ও ব্যবহার:
আমলকি টুকরো করে নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে হালকা আঁচে গরম করুন। ঠান্ডা হলে ছেঁকে নিন এবং নিয়মিত মাথায় ব্যবহার করুন।
এতে চুল পুষ্টি পায়, ভাঙা–ঝরা কমে ও নতুন চুল গজাতে সহায়ক হয়।
শেষ কথা
চুল পড়া কমাতে এবং মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে প্রাকৃতিক তেলগুলো অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। তবে কারও যদি অতিরিক্ত চুল পড়া, ত্বকে জ্বালা বা কোনও অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত যত্ন ও সঠিক তেল ব্যবহারেই চুল ফিরে পেতে পারে তার আগের শক্তি ও ঘনত্ব।
আরও পড়ুন,
সকালের জলখাবার বাদ? বিপদ বাড়ছে অজান্তেই
হেডফোনে বাড়ছে শ্রবণহানি: ‘৬০/৬০’ নিয়মেই মিলবে সুরক্ষা

