টলিপাড়ায় পরিচালক অনীক দত্তের মৃত্যুর পর তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও শেষ জীবনের নানা অধ্যায়কে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অনীকের ঘনিষ্ঠ পরিচিত বিজ্ঞানী পর্ণালী ধর চৌধুরীকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়া এবং চলচ্চিত্র মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত স্মৃতিচারণমূলক লেখায় পর্ণালী ধর চৌধুরী প্রয়াত পরিচালকের জীবনী লেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে কর্মরত এই বিজ্ঞানী নিজেকে অনীক দত্তের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর স্মৃতিচারণা করেন। তবে এই মন্তব্য সামনে আসার পর থেকেই টলিউডের একাংশে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
অভিনেত্রী পরমা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে পর্ণালীর সমালোচনা করে দাবি করেন, অনীক দত্তের মৃত্যুর পর তাঁর নামকে ব্যবহার করে প্রচারের আলোয় আসার চেষ্টা চলছে। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পর্ণালীর আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাঁর আচরণকে ‘ভানপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন।
পরমার বক্তব্যের সমর্থন করেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও। তিনি অভিযোগ করেন, অনীক দত্তের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্রে পর্ণালী বিভিন্ন পরিচিতি অর্জন করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীকালে সেই সম্পর্ক আগের মতো ছিল না। এমনকি পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। শ্রীলেখার দাবি, অনীকের জীবনের শেষ পর্বে এই ঘটনার কারণে তিনি মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছিলেন।
শ্রীলেখা আরও বলেন, কোনও ব্যক্তির জীবনী রচনার আগে তাঁর জীবন ও ব্যক্তিগত ইতিহাস সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। সেই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, পর্ণালী আদৌ কতটা গভীরভাবে অনীক দত্তকে চিনতেন।

এই বিতর্কের মধ্যেই অনীক দত্তের প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি দত্তকে ঘিরেও কিছু গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক মাধ্যমে এমন দাবি করা হচ্ছিল যে, পরিচালকের জীবনের শেষ সময়ে তাঁদের সম্পর্কের টানাপোড়েন তাঁর মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলেছিল। তবে এই ধরনের জল্পনার বিরোধিতা করে শ্রীলেখা মিত্র জানান, সন্ধি দত্তকে অযথা দোষারোপ করা উচিত নয়। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে অনীক দত্তের জীবনের নানা দায়িত্ব সামলেছেন সন্ধি, যা পরিচালকের কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে পরিচালকের মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়েও নানা জল্পনা সামনে আসে। তবে আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজের তথ্যকে সামনে এনে ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, ঘটনাটিকে ঘিরে ছড়ানো একাধিক গুঞ্জনের বাস্তব ভিত্তি নেই।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও কিছু দাবি ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেখানে বলা হচ্ছে অনীক দত্ত নাকি শেষ কয়েক দিনে পর্ণালীর সঙ্গে যোগাযোগের প্রত্যাশায় ছিলেন। যদিও এসব দাবির কোনও স্বাধীন বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। অন্যদিকে এই সমস্ত অভিযোগ ও সমালোচনার বিষয়ে পর্ণালী ধর চৌধুরীর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ফলে অনীক দত্তের প্রয়াণের শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বন্ধুত্ব এবং শেষ জীবনের ঘটনাবলীকে ঘিরে টলিপাড়ায় নতুন বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চললেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.