শীতের রাতে ঘুম ভেঙে দেখছেন শরীর ভিজে যাচ্ছে ঘামে, পাখা না চালালে অস্বস্তি হচ্ছে—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হচ্ছে ইদানীং। সাধারণত গরমে বা শরীরচর্চার পরে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ঘরের পরিবেশ আরামদায়ক থাকা সত্ত্বেও, শরীর বিশ্রামে থাকার সময় যদি অতিরিক্ত ঘাম হতে থাকে, তা উপেক্ষা করা ঠিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, এটি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কিছু সমস্যার আগাম সংকেত হতে পারে।
রাতে ঘাম হওয়ার মূল কারণ হল শরীরের তাপমাত্রা আচমকা বেড়ে যাওয়া। কেন এমন হচ্ছে, তার পিছনে একাধিক শারীরিক ও মানসিক কারণ থাকতে পারে। অনেক সময় এর সঙ্গে যুক্ত থাকে অতিরিক্ত ক্লান্তি, দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া কিংবা অস্বস্তির মতো লক্ষণ।
কিছু ক্ষেত্রে রাতে অতিরিক্ত ঘাম রক্তের ক্যানসার, বিশেষ করে লিউকেমিয়ার পূর্বলক্ষণ হতে পারে। এই রোগে শ্বেত রক্তকণিকার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে, যার ফলে লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া, যকৃত ও প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া, রক্তাল্পতা, ওজন হ্রাস এবং রাতের ঘাম দেখা দিতে পারে। তবে মনে রাখা জরুরি, রাতে ঘাম হওয়া মানেই ক্যানসার—এমন ধারণা একেবারেই ঠিক নয়।
চিকিৎসকদের মতে, এর পিছনে আরও নানা কারণ থাকতে পারে—
১) অতিরিক্ত উদ্বেগ ও মানসিক চাপ:
যাঁরা দীর্ঘদিন উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তায় ভোগেন, তাঁদের রাতে ‘প্যানিক অ্যাটাক’ হতে পারে। এতে হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট ও অতিরিক্ত ঘাম হয়। দীর্ঘদিন চললে এটি হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
২) থাইরয়েডের সমস্যা:
হাইপারথাইরয়েডিজ়মে শরীরের বিপাক হার বেড়ে যায়, ফলে শরীর গরম লাগে এবং রাতে ঘাম হতে পারে।
৩) ইডিয়োপ্যাথিক হাইপারহাইড্রোসিস:
এই সমস্যায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ঘাম হয়। ঠান্ডা পরিবেশেও ঘাম বন্ধ হয় না। এটি বংশগত বা ডায়াবিটিস, হৃদ্রোগের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে।
৪) রক্তে শর্করা কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া):
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লাড সুগার আচমকা কমে গেলে রাতে অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
৫) রজোনিবৃত্তি:
মহিলাদের মেনোপজের সময় হরমোনের তারতম্যের কারণে ‘নাইট সুইট’ বা রাতে ঘাম হওয়া খুবই সাধারণ লক্ষণ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শীতের রাতেও ঘুমের মধ্যে অতিরিক্ত ঘাম হলে তা শরীরের স্বাভাবিক সংকেত নাও হতে পারে। উপসর্গ দীর্ঘদিন চললে বা সঙ্গে অন্য শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো কারণ চিহ্নিত করা গেলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.